হাশমির কিস অব লাইফ

আয়ানের কাছে রোজ ব্যাটম্যানের ফোন আসে। আয়ান ঠিকমতো না খেলে তার মায়ের ফোনে ভেসে ওঠে ব্যাটম্যানের ছবিওয়ালা নম্বরটা। ফোন ধরে আয়ান কথা বলে তার ব্যাটম্যানের সঙ্গে। আয়ানের যখন খুব অসুখ, নিয়মিত নিতে হতো কেমোথেরাপি, তখন থেকেই তার কাছে নিয়মিত ব্যাটম্যানের ফোন আসে। কেমোর তীব্র যন্ত্রণা থেকে এই ব্যাটম্যান তাকে ফিরিয়ে আনত স্বাভাবিক জীবনে। মজার বিষয় কী জানেন? এই ব্যাটম্যানের সঙ্গে আয়ানের বাবার কণ্ঠের দারুণ মিল। আয়ান মাঝেমধ্যেই দ্বিধায় পড়ে যায়, সে আসলে কথা বলছে কার সঙ্গে? ব্যাটম্যান, নাকি তার তারকা বাবা এমরান হাশমির সঙ্গে?
অতিমানব ব্যাটম্যান, আয়ান, আয়ানের ক্যানসারের দিনগুলো নিয়ে তাঁর বাবা এমরান হাশমি লিখেছেন কিস অব লাইফ বই। সেখানেই আছে এই গল্পগুলো। কাল ১৩ মে মুক্তি পাবে এমরানের ছবি আজহার। এই ছবিতেও সেই পুরোনো নিয়মে এমরান তাঁর নায়িকাদের সঙ্গে হয়েছেন অন্তরঙ্গ, আছে চুমুর দৃশ্যও। কিন্তু কিস অব লাইফ বইয়ে এমরান যে চুমুর কথা বলেছেন, তার সামনে এখন যেন এসব রগরগে চুম্বন ম্লান। তাই তো আজহার ছবিতে নার্গিস ফাখরিকে দেওয়া চুমুর চেয়ে এখন আলোচিত এমরান ও তাঁর ছেলে আয়ানের কিস অব লাইফ।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে আয়ানের কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ার খবর জানতে পারে সবাই। সেই টিউমার থেকেই ক্যানসার। কিন্তু তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই শুরু হয় আয়ানের চিকিৎসা। প্রায় দুই বছর চিকিৎসার পর এখন পুরোপুরি সুস্থ ছয় বছরের আয়ান। এমরান হাশমি তাঁর কিস অব লাইফ বইয়ে ছেলের চিকিৎসার সেই কঠিন সময় নিয়ে লিখেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে জীবনের বদলে যাওয়ার সফরটাকেও ব্যাখ্যা করেছেন দারুণভাবে। বইটি নিয়ে এখন আলোচনার কমতি নেই। যে এমরান তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে বরাবরই একটু মুখচোরা স্বভাবের, সেই মানুষটি যখন সরাসরি কথা বলেন জীবন, বলিউডে প্রতিষ্ঠা, ধর্ম নিয়ে বৈষম্য ও তাঁর চুমু বিতর্ক নিয়ে, তখন তো তা সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যাবেই।
কিন্তু ‘চুম্বন’-এ জনপ্রিয় এমরান ছেলের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ের বিষয়টি কেন তাঁর ‘চুমু’র সঙ্গে মেলালেন? এই প্রশ্নের জবাব তিনি দিলেন বেশ হালকাভাবেই। কারণ কঠিন রোগটির সঙ্গে লড়তে লড়তে একমাত্র সন্তানের যে কষ্ট তাঁকে যন্ত্রণা দিয়েছে, তাঁর সামনে এই ‘চুম্বন’ কিংবা ‘অশ্লীলতা’ বিতর্ক তো খুবই হালকা। এমরান বললেন, ‘প্রথমে বইটির নাম ছিল “ডন দ্য কেপ”। এরপর দিলাম “সুপারহিরো কিডস”। কিন্তু এসব ঠিক মনের মতো লাগছিল না। একদিন ঘরে রাঁধতে গিয়ে হঠাৎ মাথায় এল কিস অব লাইফ নামটি। আমি সঙ্গে সঙ্গে বিলালকে (বিলাল সিদ্দিকী, কিস অব লাইফ বইয়ের সহলেখক) ফোন দিলাম। সে কিছুক্ষণ হাসল। এরপর প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলে জানাল, এই নামটাই চূড়ান্ত। কারণ এটা খুব সহজেই আমার ভক্ত ও পাঠকদের নজরে আসবে। সহজে বিপণনযোগ্য একটা নাম।’
‘চুমু’ আর ‘সুপারহিরো’ এমরানের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে আছে। এমরান এ নিয়ে বলেন, ‘“চুমু”র বিষয় কেন, তা তো সবারই জানা। একটা স্টেরিওটাইপ ভাবনায় আবদ্ধ আমরা। আর “সুপারহিরো” হলো আমার আর আয়ানের দুজনেরই খুব পছন্দ। বিশেষ করে ব্যাটম্যান। ও ব্যাটম্যানের সব কথা শোনে। তাই কেমোর সময় থেকে এখন পর্যন্ত আয়ানকে যখনই কোনো কথা শোনাতে হয়, তখনই ওর মায়ের ফোনে ব্যাটম্যান নামে সেভ করা আমার নম্বর থেকে ফোন দিই। সে ব্যাটম্যানের সব কথা শোনে।’
সত্যিই তো আয়ানের বাবা ব্যাটমান। তাই তো এত চড়াই-উতরাইয়ের পরও দমে যাননি এমরান। যখন তাঁর ‘চুমু বিতর্ক’ সবকিছু জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিচ্ছিল, তখনো নিজ আসনে অনড় ছিলেন হাশমি। আবার যখন তিনি ‘চুমু’র সঙ্গে অভিনয় দিয়েও সাফল্য পেয়েছেন, তখনো তাঁর ওপর ভর করেনি আদিখ্যেতা। এমনকি একের পর এক ছবি ফ্লপ হতে শুরু করলেও এমরান ঠিকই তাঁর জাত চিনিয়ে গেছেন অভিনয় দিয়ে। তাই সেই অতিমানব বাবার ছেলে আয়ান যখন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিল, তখন বাবার ওই চুমুই তো নতুন করে জীবনের স্বাদ দিয়েছে তাঁকে, শক্তি দিয়েছে মৃত্যুকে জয় করার। এ জন্যই এখন নায়ক এমরানের চুম্বনের চেয়ে, বাবা এমরানের চুমুই হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে অনুকরণীয়, অনুসরণীয়।