ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন বিলের রিপোর্ট সংসদে » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42777_f3বার্তাবাংলা ডেস্ক ::সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের আপিল করার সুযোগ রহিত করে বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিলের ওপর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করা হয়েছে। আগামী রোববার বিলটি পাস হবে। এর ফলে যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবে রাষ্ট্রপক্ষ। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ, বাদী ও বিবাদীপক্ষ শুধুমাত্র আপিল করতে পারবে। এছাড়া ৩০ দিনের মধ্যে আপিল এবং ৬০ দিনের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নতুন আইনটি ২০০৯ সালের ১৪ই জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে বলা হয়েছে। ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুতেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া রিপোর্টটি সংসদে পেশ করেন। মূল বিলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিলের যে সুযোগ রাখা হয়েছিল, সংসদীয় স্থায়ী কমিটি তা বাদ দিয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২১ (২) উপধারায় বলা হয়েছে, সরকার অথবা বাদী-বিবাদী পক্ষ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের খালাস কিংবা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিলের সুযোগ রোধ করার কারণ সম্পর্কে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, যে কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিলের সুযোগ রাখলে যে কোন মামলায় হাজার হাজার আপিল হতে পারে। এতে পুরো বিচার-প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে পারে। সেজন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মূল বিলে থাকা এ বিধানটি বাতিল করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া ২১ (৫) উপধারা অনুযায়ী, আপিল করার সময়ই আপিলকারীকে সমুদয় দলিল, দস্তাবেজ, ডকুমেন্ট সর্বোচ্চ আদালতে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে। মূল বিলের ২১ (৪) উপধারায় উল্লেখ ছিল, আপিল আবেদন দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে তা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে প্রয়োজনে আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, বিলে আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ৪৫ দিন সময়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক নয়। সে কারণে উক্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে ৬০ দিনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আগে বুধবার বিকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার বা সংক্ষুব্ধ যে কোন ব্যক্তির আপিল করার বিধান এবং আপিল করার ক্ষেত্রে বাদী-বিবাদীর সমান সুযোগের বিধান রেখে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। উত্থাপনের দেড় ঘণ্টার মাথায় ওই রাতেই বিশেষ বৈঠকে বসে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিলের বিষয়টি বাদ দিয়ে বিলটি অনুমোদন দেয় সংসদীয় কমিটি। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আইনটিতে সংশোধনী আনা হলো। বর্তমান সরকারের আমলে এর আগে আরও দুই দফা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এর সংশোধনী আনা হয়। ২০০৯ সালের ৯ই জুলাই আনা সংশোধনীতে কেবল খালাসের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ সংযোজন করা হয়। মূল আইনে শুধু আসামিপক্ষের আপিলের বিধান ছিল। ২০১২ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফা সংশোধনীতে আপিলের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচারের বিধানও সংযুক্ত করা হয়। এক ট্রাইব্যুনাল থেকে আরেক ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া যে দিন রায় হবে, সে দিনই রায়ের সত্যায়িত কপি উভয় পক্ষকে বিনামূল্যে দেয়ার বিধান করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসি না হওয়ায় এই আইনের আপিলের বিধান নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের ঘোষণা দিলেও আইনের একমাত্র খালাসের বিরুদ্ধে ছাড়া আপিলের সুযোগ না থাকায় তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। রাজধানীর শাহবাগের উত্তাল গণআন্দোলন থেকে এই সংশোধনের দাবি জানানো হয়। এরপর সরকার আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। গত সোমবার বিলটি মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব নাগরিককে আইনের সমান আশ্রয় লাভের যে অধিকার দেয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে ২১ (১) ধারায় তা প্রতিফলিত হয়নি। সেজন্য ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ কারণে ২১ (২) ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তির আপিলের জন্য ২১ (১) উপধারায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত বিচার লাভের অধিকারী। এ কারণে সংশোধনীতে আপিল নিষ্পত্তির মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »