বার্তাবাংলা রিপোর্ট »

Dating App

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি। নাটোর শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে উত্তরা গণভবন হিসেবে ঘোষাণা করার পর থেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ ছিল।

স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী পরিষদ সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর ২০১২ গণভবন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে উত্তরা গণভবন আর ১০ টাকার টিকেটে রাজবাড়ি পরিদর্শন করে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হন।

তবে, রেস্টহাউস ও মোটেল না থাকায় থাকা-খাওয়া নিয়ে বিড়ম্বনা পোহাতে হয় দূর থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের।

এছাড়া, রানী ভবানীর রাজবাড়ির পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আর স্থাপনা ও দীঘিগুলো সংরক্ষণের দাবিও জানিয়েছেন পর্যটকরা।

দিঘাপতিয়া রাজপ্রাসাদটি প্রাচীন স্থাপত্যকলার দৃষ্টিনন্দন এক নিদর্শন। প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সৌন্দর্যমণ্ডিত এ রাজবাড়ীটি শহরতলির দিঘাপতিয়া ইউনিয়নে আজও কালের সাক্ষী হয়ে উত্তরা গণভবন নাম নিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। এই রাজবাড়ীতে এক সময় শোনা যেত নূপুরের ঝঙ্কার আর সেই সঙ্গে মধুরকণ্ঠের সুর মূর্ছনা। ছিল পাইক-পেয়াদার কর্মচাঞ্চল্য, রাজ-বাজন্যবর্গের গুরুগম্ভীর অবস্থান। ছিল বিত্ত-বৈভবের ঝলক। এখন আর সেসব নেই। শুধুই কালের সাক্ষী হয়ে সেই দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীটি উত্তরা গণভবন নাম নিয়ে আজও স্মৃতি বহন করে চলেছে। দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীর সামনে গেলে সবাইকে থমকে যেতে হয় দৃষ্টিনন্দন সুদৃশ্য বিশাল এক সিংহ দুয়ার বা ফটক দেখে। সেই ফটকের উপরে রয়েছে এক প্রকাণ্ড ঘড়ি যা দুদিক থেকেই দৃশ্যমান। সাত দিনে একবার চাবি দিলেও ওই ঘড়িটি আজও সঠিকভাবে সময় নির্ণয় করে চলেছে। রাজবাড়ীতে প্রবেশের এটাই একমাত্র পথ। এছাড়া চারদিকে সুউচ্চ প্রাচীর এবং তারপর পরিখা। রাজবাড়ীজুড়ে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানান বিরল প্রজাতির বৃক্ষরাজি।

প্রতিষ্ঠা : দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজা দয়ারাম রায়। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নাটোর রাজ্যের দেওয়ান দয়ারাম রায় ১৭০৬ রাজা রামজীবনের কাছ থেকে উপহার হিসেবে বাস করার জন্য যে জমি পেয়েছিলেন ১৭৩৪ সালে তার ওপরেই স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন এই দিঘাপতিয়া রাজপ্রাসাদটি নির্মাণ করেন। তিনি নাটোরের মূল শহর থেকে প্রায় দুই মাইল উত্তরে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পাশে দিঘাপতিয়া ইউনিয়নে এই রাজপ্রাসাদটি নির্মাণ করেন। রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদানাথ রায়ের সময় ১৮৯৭ সালের ১০ জুন নাটোরের ডোমপাড়া মাঠে তিন দিনব্যাপী বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের এক অধিবেশন আয়োজন করেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তি এ অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অধিবেশনের শেষ দিন ১২ জুন প্রায় ১৮ মিনিটব্যাপী এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে রাজপ্রাসাদটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরে ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে এ প্রাসাদটি ধ্বংসপ্রায় হয়ে গেলে রাজা প্রমদানাথ রায় ১৮৯৭ থেকে ১৯০৮ সাল পর্যন্ত ১১ বছর সময় ধরে বিদেশি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও চিত্রকর্ম শিল্পী আর দেশি মিস্ত্রিদের সহায়তায় সাড়ে ৪১ একর জমির উপর এই রাজবাড়ীটি পুনঃনির্মাণ করেন। প্রাচীরে বাইরের ফটকের সামনে রয়েছে আরও ২.৮৯ একর জমি। দিঘাপতিয়া রাজের রাজা প্রমদানাথ রায় চারদিকে সীমানা প্রাচীর দিয়ে পরিবেষ্টিত রাজপ্রাসাদের ভেতরে বিশেষ কারুকার্য খচিত মূল ভবনসহ ছোট-বড় মোট ১২টি ভবন নির্মাণ করেন। তিনি মোগল ও প্রাশ্চাত্য রীতির অনুসরণে কারুকার্যময় নান্দনিক ওই প্রাসাদটিকে এক বিরল রাজ ভবন হিসেবে গড়ে তোলেন।

রাজবংশের রাজারা : দিঘাপতিয়া রাজবংশের রাজারা ছিলেন আধুনিক মনমানসিকতার অধিকারী। ১৭১০ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই রাজবংশের রাজারা কৃতিত্বের সঙ্গেই রাজ্য শাসন করেন। ইতিহাসের পাতায় এখনো যারা অমর হয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা দয়ারাম রায়, জগন্নাথ রায়, প্রাণনাথ রায়, প্রসন্ননাথ রায়, প্রমথনাথ রায়, প্রমদানাথ রায়, প্রতিভানাথ রায় এবং অষ্টম ও বংশের শেষ রাজা কুমার প্রভাতনাথ রায়। ১৯৬২ সালে তিনি দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়ে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯৯৭ সালে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রথম রাজা দয়ারাম রায় : দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা দয়ারাম রায় নাটোর রাজের রাজা রাম জীবনের দেওয়ান ছিলেন। তিলি বংশীয় দয়ারামের বাসস্থান ছিল সিংড়ার বিখ্যাত কলম গ্রামে। সপ্তদশ শতকের শেষদিকে পুঠিয়া দর্পণারায়নের অধীনে নাটোর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজ রামজীবন যখন পুঠিয়া কাচারিতে মাসিক মাত্র ৮ আনা বেতনে জমার মহুরীর কাজ করতেন সে সময় তিনি দয়ারাম রায়কেও মাসিক মাত্র ৮ আনা বেতনে তাদের চাকর রেখেছিলেন। কথিত আছে রাজা রাম জীবন একদিন রাজ কাজে নৌকায় চলনবিল এলাকায় যান এবং কলম গ্রামে নৌকা ভেড়ান। এ সময় কলম নদীতে কতগুলো ছোট ছোট ছেলেমেয়ে হই-চই করে বিলে স্নান করছিল। এ সময় যে দুটি ছেলে নৌকার কাছে চলে আসে তাদেরই মধ্যে একজন দয়ারাম। তাকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান মনে হওয়ায় রাজা রামজীবন তাকে পুঠিয়ায় নিয়ে গিয়ে মাসিক ৮ আনা বেতনে চাকরি দেন। ১৭১৪ সালের শেষ দিকে ভূষণার জমিদার সীতারামের পতনের মূলে ছিল এই দয়ারাম রায়ের কূটকৌশল। সীতারামের পতনের পর নাটোর রাজের রাজা রামজীবন নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর কাছ থেকে ভূষণা ও মাহ্মুদাবাদের জমিদারি লাভ করেন। সীতারামের সঙ্গে মুর্শিদ কুলি খাঁর যুদ্ধে বাংলার তৎকালীন যে সব জমিদার আর রাজা সহযোগিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নাটোরের রাজা রামজীবন। রাজা দয়ারাম রায়ের পুত্র জগন্নাথ রায় ৫ কন্যা রেখে ১৭৬০ সালে ৮০ বছর বয়সে মারা যান।

যা আছে এই রাজবাড়ীতে : রাজবাড়ীতে মোট ১২টি ভবন রয়েছে আর এগুলো হচ্ছে প্রধান প্রাসাদ ভবন, কুমার প্যালেস, প্রধান কাচারিভবন, ৩টি কর্তারাণী বাড়ি, প্রধান ফটক রান্নাঘর, মোটর গ্যারেজ, ড্রাইভার কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ার্টার, ট্রেজারি বিল্ডিং ও সেন্ট্রি বঙ্। মূল ভবনসহ অন্যান্য ভবনের দরজা-জানালা সব মূল্যবান কাঠের নির্মিত। প্যালেসের দক্ষিণে রয়েছে পাথর এবং মার্বেল পাথরে কারুকাজ করা ফুলের বাগান। বাগানটি ইতালি গার্ডেন নামে পরিচিত। এই বাগানে রয়েছে দেশি-বিদেশি নানা জাতের দুর্লভ সব ফুলের গাছ। বাগানে ইতালি থেকে আনা শ্বেতপাথরের ৪টি নারী ভাস্কর্য এখনো পর্যটকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আকর্ষণীয় টাইপের ফোয়ারা এবং মাঝে মাঝে কারুকাজ করা লোহ ও কাঠ নির্মিত বেঞ্চ ও ডিম্বাকার সাইজের একটি মার্বেল পাথরের নির্মিত প্লাটফরম। এছাড়াও ভেতরে রয়েছে আগত অতিথিদের চলাফেরার জন্য ৪ ফুট চওড়া রাস্তা। সমগ্র বাগানে বিরল প্রজাতির ফুল আর নামিদামি গাছের সমাহার।

রাজপ্রাসাদ : দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির মূল প্রাসাদটি একতলা। এতে রয়েছে প্রশস্ত একটি হলঘর। বেশ উঁচু হলঘরের শীর্ষে রয়েছে একটি প্রকাণ্ড গুম্বুজ। এ গুম্বুজের নিচ দিয়ে হলঘরে পর্যাপ্ত আলোবাতাস প্রবেশ করার ব্যবস্থা রযেছে। হলঘরের মাঝে রাজার আমলে তৈরি বেশ কিছু আসবাবপত্র রয়েছে। এছাড়াও হলরুমে কারুকার্য খচিত একটি বড় সোফা রয়েছে যাতে একসঙ্গে চারজন চারমুখী হয়ে বসা যায়। এই সোফায় বসলে দেয়ালে আটকানো বড় আয়নায় প্রত্যেকে প্রত্যেককে দেখতে পেতেন। উত্তরা গণভবনে উচ্চ পর্যায়ের কোনো সভা হলে এ রুমেই হয়। উপরে রয়েছে ঝাড়বাতি। হলরুমের পাশে রয়েছে আরেকটি বড় ঘর। পাশের রান্নাঘর থেকে এ ঘরে সরাসরি আসা যায়। নিরাপত্তার জন্য রান্নাঘরের করিডোরের দুপাশে রাজার আমলের নেটিং করা রয়েছে। এই ভবনের এক পাশে একটি ঘরে রয়েছে রাজসিংহাসন। তার পাশের ঘরটি রাজার শয়নঘর। এ ঘরে এখনো রাজার খাটটি শোভা পাচ্ছে। শোবার ঘরের বারান্দার চারদিকে তারের নেট দিয়ে ঘেরা ছিল। কুমার ভবনের পেছনের ভবন রাজার কোষাগার আর অস্ত্রাগার। দক্ষিণে ছিল রানীমহল। আজ আর সেটা নেই। ১৯৬৭ সালে ভেঙে ফেলা হয়েছে। রানীমহলের সামনে একটি ফোয়ারা আজও স্মৃতিবহন করে চলেছে। পাশে ছিল দাসী ভবন। রাজার একটি চিড়িয়াখানাও ছিল। সেখানে হরিণ আর খরগোশসহ অনেক জীবজন্তুই ছিল। শুধু খাঁচাগুলো আজও তার স্মৃতিবহন করছে। শোনা গেছে, এসব জীবজন্তু পরে নাকি রাজশাহী চিড়িয়াখানাতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মূল ভবনের সামনে রয়েছে রাজা প্রসন্ননাথ রায় বাহাদুরের আবক্ষ মূর্তি।

এর দুপাশে রয়েছে ১৮৫৪ সালে ব্রিটিশদের তৈরি করা দুটি কামান। মূল প্যালেসের মাঠের পূর্বে রয়েছে রাজার দোলমঞ্চ। পাশেই রয়েছে কুমার প্যালেস। এর সামনে বসানো চার চাকাবিশিষ্ট একটি কালো কামান আজও শোভা পাচ্ছে। মূল রাজপ্রাসাদের প্রবেশপথে সিঁড়ির দুপাশে দুটি কালো কৃষ্ণমূর্তি। এর পরই রয়েছে ধাতব বর্ম। এটা পরেই রাজা যুদ্ধে যেতেন। এ কারণে পিতলের তৈরি এ বর্মটি আজও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

রাজাদের অবদান : ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত দিঘাপতিয়া রাজ্যের ৭ জন রাজা বংশানুক্রমিকভাবে রাজ্য শাসন ও উন্নয়নমূলক কাজ করে ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন। এ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা দয়ারামের সময় এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। চতুর্থ রাজা প্রসন্ননাথ রায়ের আমলে ১৮২৯ সালে নাটোর মহকুমা হয়। রাজশাহী থেকে নাটোর পর্যন্ত রাজপথকে দিঘাপতিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত করেন এবং বগুড়াগামী রাস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করেন। ১৯৫০ সালে এ রাস্তার সংস্কার বাবদ সরকারকে ৩৫ হাজার টাকা দান করেন। ১৮৫১ সালে স্থাপন করেন সর্বপ্রথম নাটোরের দাতব্য হাসপাতাল যা আজকের আধুনিক সদর হাসপাতালে রূপান্তরিত। সে সময় এখানে ইউরোপের ওষুধপত্র ও যন্ত্রপাতি বিনামূল্যে দেওয়া হতো। ১৮৫৩ সালে রাজা প্রসন্ননাথ রায়ের মৃত্যুর পর তার দানের অর্থে রাজশাহী দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটিই হয় রাজশাহী সদর হাসপাতাল। ১৮৫২ সালে নাটোর রাজ নির্মিত করে প্রসন্ননাথ একাডেমি। এটিই হয় পরে নাটোরের সর্বপ্রথম হাইস্কুল। এছাড়া দিঘাপতিয়া হাইস্কুল, নাটোর ও রাজশাহী হাসপাতালের জন্য রাজা প্রসন্ননাথ রায় ১৮৫২ সালে এক লাখ টাকা দেন। দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীটি তিনি আধুনিকভাবে গড়ে তোলেন। পঞ্চম রাজা প্রসন্ননাথ রায়ের আমলে রাজ্যের বিস্তৃতি লাভ করে। রাজশাহী হুগলী জেলার শেওরাফুলী এস্টেট, যশোরের মাহমুদপুর, নড়াইলের কিছু অংশ, নদীয়া ও বগুড়ার বেশকিছু অংশ জমিদারির অন্তর্ভুক্ত হয়। এজন্য ১৮৭১ সালে তিনি রাজা বাহাদুর খেতাব লাভ করেন। তিনি রাজশাহী জেলার সর্বাপেক্ষা ধনী জমিদার ছিলেন।দিঘাপতিয়া রাজবাড়িতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি পর্যটকদের

১৮৬৮ সালে রাজশাহী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বগুড়ার নওখিলাতে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় এবং একটি মাধ্যমিক চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। ১৮৮২ সালে তা উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিণত হয়। ১৮৭৭ সালে প্রসন্ননাথ রায় বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য মনোনিত হন। তার চেষ্টায় অনেক আইন পাস হয়। এই রাজবংশের ষষ্ঠ রাজা প্রমদানাথ রায় ১৮৯৪ সালের ২৯ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন জনকল্যাণকর কাজ করেন। এর মধ্যে রাজশাহী চিকিৎসালয়ে ৭ হাজার টাকা এবং লেডি ডাফুরিন ফান্ডে ২০ হাজার টাকা দান করেন। নওখিলাতে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। রাজশাহী-নাটোর সড়ক সংস্কারের জন্য সব ব্যয়ভার গ্রহণ করেন। ১৮৯৮ সালে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে রাজা উপাধি পান।

সর্বশেষ অবস্থা : ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিঘাপতিয়া রাজা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হওয়ার পর দিঘাপতিয়ার রাজপ্রাসাদটির রক্ষণা-বেক্ষণে বেশ সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যা সমাধানে ১৯৬৬ সালে এ রাজভবন ইস্ট পাকিস্তান হাউসে পরিণত হয়। ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খান এটিকে গভর্নর হাউসে রূপান্তরিত করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে উত্তরা গণভবন হিসেবে ঘোষণা দেন। আর ১৯৮০ সালের ১৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান ঢাকার বাইরে প্রথম এই উত্তরা গণভবনেই মন্ত্রিসভার বৈঠক করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। পরে বেগম খালেদা জিয়া, এরশাদ ও শেখ হাসিনা সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এই রাজবাড়ীতে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেছেন। দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীটি একসময় বিস্তীর্ণ এলাকার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীর সেই রাজা-রানীদের এখন আর কেউ নেই। আগের সেই গৌরবও আর নেই। গণভবন হলেও রাজবাড়ীটি এখন শুধুই মুকুটহীনভাবে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা হিসেবে পড়ে রয়েছে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »