‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধন: অযথা বিলম্ব কেন?’ » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

atma press conferenceবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী এখনও সংসদে প্রেরণ না করায় এবং আইনটির বর্তমান অবস্থা ও আশংকা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে আজ সকাল ১১:০০টায় জাতীয় প্রেস কাবের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এন্টি টোবাক্যো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পাঠ করেন রুহুল আমিন রুশদ, আহ্বায়ক, আত্মা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আত্মা’র সদস্য মিজান চৌধুরী, সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক যুগান্তর এবং তাইফুর রহমান, এডভোকেসি এন্ড মিডিয়া কোঅর্ডিনেটর, ক্যাম্পেইন ফর টোবাক্যো ফ্রি কিডস্। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত আত্মার সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

বাংলাদেশে তামাকজনিত মৃত্যু তথা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতিতে তামাকের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব রোধকল্পে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। গত কয়েক বছর ধরে এ প্রক্রিয়াটি তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ ও নানা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যখন সংসদে বিল আকারে পাশ হবার মাধ্যমে সফল সমাপ্তির দিকে এগুচ্ছে ঠিক তখনই বিলটি সংসদে প্রেরণের বিলম্ব দেখে আমরা নতুনভাবে শংকিত। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীটি চলতি সংসদ অধিবেশনেই যেন পাশ হতে না পারে তা নিয়ে এখনও ষড়যন্ত্র চলছে বলে আমরা তামাক বিরোধী মিডিয়া জোট (আত্মা) সহ তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আশংকা প্রকাশ করছি এবং এ ধরনের অপতৎপরতার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি-র সদস্য হবার পর বাংলাদেশে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫’ প্রণীত হয়। আইনটিতে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত হলেও কয়েকটি সীমাবদ্ধতার কারণে তামাক নিয়ন্ত্রণে আইনটি খুব একটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। সে কারণে আইনটিকে আরও কার্যকর ও এফসিটিসির সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় কয়েক বছর আগে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়াটি শুরু থেকে তামাক কোম্পানীগুলোর নানমূখী ষড়যন্ত্র ও হস্তক্ষেপের শিকার হয়েছে। তামাক কোম্পানীগুলো সংশোধনী প্রস্তাবটিকে দুর্বল করাসহ পুরো প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা বিভিন্নভাবে করে আসছে। তারা কখনও সরকারের প্রভাবশালী মহল, কখনও জনপ্রতিনিধি, কখনও মিডিয়া, কখনও সুশীল সমাজ এবং কখনও বা তামাক উৎপাদনের সাথে জড়িত নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে আইন সংশোধনে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তবে তামাক বিরোধীদের অব্যাহত প্রতিরোধ ও আন্দোলনের মুখে তামাক কোম্পানীগুলোর অপকৌশল সার্বিকভাবে সফল হতে পারেনি। অবশ্য কিছুটা সাফল্য তারা পেয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীর যে প্রস্তাব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা খানিকটা দুর্বল হয়েছে তামাক কোম্পানীর হস্তক্ষেপের কারণে। তাছাড়া পুরো প্রক্রিয়াটিকে বেশ খানিকটা বিলম্বিত করতে সক্ষম হয়েছে তামাক কোম্পানীগুলো তাদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। এতকিছুর পরেও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীটি যখন মন্ত্রীসভার চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে গত ২৬ নভেম্বর, তখন আমরা আশান্বিত হয়েছিলাম এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে চলতি অধিবেশনে বিলটি পাশ হবে।

এসব আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আমরা যখন তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনীটি সংসদে পাশের অপেক্ষায় আছি, তখন নতুন ষড়যন্ত্রের কথা আমরা জানতে পারছি। মন্ত্রীসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেও সরকারের আইন, সংসদ ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আইনগত দিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করার নামে প্রক্রিয়াটিকে আবারো বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে এবং এর মধ্যে তামাক কোম্পানীর অশুভ হস্তক্ষেপ আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। মন্ত্রীসভায় গত ২৭ আগস্ট নীতিগত অনুমোদনের পরে আইন মন্ত্রণালয় রীতিমাফিক ভেটিং সম্পন্ন করার পরেও আবার এ পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার নামে মাসাধিককাল সময় পার করে দিয়ে এখনও বিলটি কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারলো না, সেটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৬ নভেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার সময় মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে একটি মাত্র ধারা সামান্য পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়ায় কেবল সেই ধারাটি সম্পর্কে আইনি পরামর্শ নেবার জন্য সংশোধনীটি আইন মন্ত্রণলয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে কেবল সেই ধারাটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ পুরো বিলটিকেই আবারো যাচাই করার নামে বেশ কিছু পরিবর্তন নতুন করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। আমাদের প্রশ্ন, মন্ত্রীসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশোধনীটিতে নতুন করে সংযোজন, বিয়োজন কিংবা পরিমার্জনের চেষ্টা মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করার নামান্তর নয় কি? তাছাড়া, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে কী থাকবে বা থাকবে না সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার এখতিয়ার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যা ইতিমধ্যে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রীসভা। এর মধ্যে কেবল আইনগত দিক যাচাই করা ছাড়া আইনের মূল প্রস্তাবগুলোতে কোন পরিবর্তন আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে করা যায় কি-না, সে প্রশ্নটি আমরা সরকারের সমীপে রাখতে চাই।

পুরো বিষয়টিতে আইন মন্ত্রণালয়ের অসময়োচিত এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে এ কথা স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, এ প্রক্রিয়াটিতে তামাক কোম্পানীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা বা ইন্ধন রয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ইতিমধ্যেই সংশোধনীটি চলতি সংসদ অধিবেশনে পাশ করার যথেষ্ট সময় আছে কি-না, সে বিষয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তাই সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, অবিলম্বে সংশোধনী প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটিকে সংসদে পাশ করে আইনে পরিণত করা হোক।

আত্মা আশা করে, সব ষড়যন্ত্রের উর্ধ্বে উঠে সরকার জনস্বাস্থ্যকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করবে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোনীটি সংসদে পাশ করার সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »