অপেক্ষায় হাজারো পোশাক শ্রমিক

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: বছরের অন্য সময় গ্রামের বাড়ি যাওয়া না হলেও বছরের দুটি ঈদে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঈদ করতে ভুল করেন না পোশাক শ্রমিকরা। বাসের সিট না পেয়ে শত কষ্ট সহ্য করে বাসের ছাদে, ট্রাকের উপরে ওঠে রোদ বৃষ্টিতে পুড়ে হলেও গ্রামের বাড়ি যেতেই হবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সাভার-আশুলিয়ার ছোট বড় হাজারখানেক পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক ঈদে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। ঈদ এলে যেন তাদের মন কিছুতেই মানতে চায় না। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই বলে যে একটা কথা রয়েছে। বাড়ি ফিরতে অপেক্ষা করতেই হবে! কারণ এখনো এ পোশাক শ্রমিকরা ঈদের বেতন-ভাতা পায়নি। সরকারের তরফ থেকে রোববারের মধ্যে বকেয়া বেতন, ঈদের বোনাসসহ চলতি মাসের ১৫ দিনের বেতন পরিশোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেতন ভাতা পরিশোধের পরপরই যানজট নিরসনে ও নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডরিয়ন অ্যাপারেলসের শ্রমিক মরিয়ম আক্তার জানান, তিনি জীবিকার তাগিদে তার গ্রামের বাড়ি রংপুর থেকে গত ৫ বছর আগে আশুলিয়ায় আসেন। চাকরি করে বেতন পাচ্ছেন আট হাজার টাকা। তিনি জানান, বছরের সব সময় বাড়ি যাওয়া হয় না, কারণ ঈদ ছাড়া পোশাক কারখানায় লম্বা ছুটি পাওয়া যায় না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বছরে এই দুইটা ঈদের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়। ঈদের পরিকল্পনা নিয়ে হামিম গ্রুপের শ্রমিক রাকিব জানান, তিনি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করেন এবং ওই এলাকাতেই একটি মেসে ভাড়া থাকেন। তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে তার মা-বাবা ও ছোট দুইটা ভাই রয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবার ঈদেও তিনি গ্রামের বাড়ি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন। তাই পরিবারের সকল সদস্যদের জন্য এরই মধ্যে গতমাসের বেতনের টাকা দিয়ে হালকা কিছু কেনাকাটাও শেষ করেছেন। ঈদের কেনাকাটা শেষ শুনার পর থেকেই গ্রামের বাড়ি থেকে ছোট ভাই দুইটা প্রতিরাতে ফোন করে জানাতে চায় ভাইয়া তুমি কবে আসবা? আর কত দেরি হবে? শুধু মরিয়ম ও আর রাকিব নয় সাভার-আশুলিয়ার এমন হাজারো মরিয়মও রাকিব ঈদে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে। সবাই গ্রামের বাড়ি প্রিয় মানুষটার সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অপেক্ষায়। সাভার-আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে যথাসময়ে বেতন ভাতা পরিশোধসহ শিল্পাঞ্চলের অবস্থা স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।