ছাত্রলীগ: সভাপতি সোহাগ, জাকির সাধারণ সম্পাদক

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নির্বাচিত হয়েছেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাকির হোসাইন। সভাপতি পেয়েছেন ২৬৯০ ভোট এবং সাধারণ সম্পাদক পেয়েছেন ২৬৭৫ ভোট। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ভোট দানের মধ্য দিয়ে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। ভোট গ্রহণের পর ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদেক বক্তব্য দেন। বিদায়ী সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, অনেকে রাতের অন্ধকারে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কমিটি দেয়। আমরা তা করিনি। ছাত্রলীগ একমাত্র সংগঠন, যারা কাউন্সিলরদের ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন করে। অন্যদিকে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যহত রাখতে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। বিদায়ী সভাপতির প্রশংসা করে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘চার বছরে তার সাথে কোন বিষয় নিয়ে চার ঘণ্টার জন্য বিরোধ সৃষ্টি হয়নি। গণমাধ্যম ছাত্রলীগ নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা বলেছে কিন্তু কখনও সোহাগ ‘গ্রুপ’ নাজমুল ‘গ্রুপ’ নামে কোনও বিষয় তুলতে পারেনি। এরপর ভোট গণনা শুরু হয়। রাত সোয়া ৮টার দিকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ৩ হাজার ১৩৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ভোট দেয় ২ হাজার ৮১৯ জন। যা মোট ভোটের শতকরা ৮৯.৮৩ শতাংশ। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রবাসী ১০টি ইউনিটসহ ১১১টি ইউনিটের প্রায় তিনহাজার কাউন্সিলর ভোট প্রদান করেন। শুরুতে রংপুর বিভাগের কাউন্সিলররা ভোট দেন। পরে একে একে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগভুক্ত বিভিন্ন জেলার কাউন্সিলর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নতুন নেতৃত্ব দুই বছরের জন্য মনোনীত হলেন। নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে ১৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সংগঠনের বর্তমান নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ‍সাবেক নেতারা উপস্থিত থেকে ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, ইসহাক আলী খান পান্না, নজরুল ইসলাম বাবু, মোল্লা আবু কাওসার, পংকজ দেবনাথ, মাহফুজুল হায়দার রোটন প্রমুখ নেতাদের দিনের বিভিন্ন সময় সম্মেলন কেন্দ্র ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে দেখা গেছে। শনিবার ছাত্রলীগের দুদিনব্যাপী ২৮তম সম্মেলন শুরু হয়। প্রথম দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন। সে সময় তিনি সরাসরি ভোট ও নেতৃত্ব নির্বাচনের বয়সসীমা ২৯ বছর ঠিক করে দেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচিতি সাইফুর রহমান সোহাগ : নির্বাচিত নতুন সভাপতি সোহাগ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করে এখানেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন। ২০০৫-০৬ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরিবেশ সম্পাদক থাকাকালীন সারা দেশে ৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করে আলোচনায় আসেন। বাড়ি মাদারীপুর সদর থানায়। মাদারীপুর ইউআই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। বাবা এইচএম আবদুর রহমান স্কুল শিক্ষক এবং মা মর্জিনা খানম পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (অবসরপ্রাপ্ত)। ভাই আরিফ হোসেন সুমন, সহসভাপতি, সুইডেন ছাত্রলীগ, মাহবুবুর রহমান সোহেল, কর্মী, সুইডেন ছাত্রলীগ। ১/১১এর সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে কালো পতাকা প্রদর্শন, ২০০৭-০৮ আগস্টের আন্দোলন এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। জাকির হোসেন : ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করেন। বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞানেই এমফিল করছেন। জিয়া হল ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে রাজনীতি করা জাকির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ। নরসিংদী থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে। বাবা আবদুল জলিল স্কুল শিক্ষক, মা আমিনা বেগম গৃহিণী। ৫ ভাইয়ের চার ভাই প্রবাসী এবং বাকি চার বোন বিবাহিত। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন, ২০১৩ সালের হেফাজত বিরোধী আন্দোলন ও শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গড়ে ওঠা আন্দোলন ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। –