সীমান্ত বিল ভারতের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরিবর্তিত আকারেই সীমান্ত বিল অনুমোদন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে ভারতের মন্ত্রিসভা বিলটি অনুমোদন দেয়।

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার অপরিবর্তিত আকারেই বিলটি পাস করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সীমান্ত বিল থেকে আসামকে বাদ দেয়ার কথা বলেছিল দলটির আসাম শাখা।

বিলটি কাল -বুধবার রাজ্যসভায় পাস করিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাস করানোর কথা রয়েছে।

এর আগে প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের চাপে গতকাল সোমবার রাতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বিলটি অপরিবর্তিতভাবে পাস করানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

গতকাল রাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর বাসভবনে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সীমান্ত বিল অপরিবর্তিতভাবে পাস করানোর সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে আসাম বিজেপির সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যসহ দলের সব সাংসদকে ডাকা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর কাল বুধবার সীমান্ত বিলটি অপরিবর্তিতভাবে রাজ্যসভায় এবং পরদিন বৃহস্পতিবার লোকসভায় পাস হতে পারে।

বিলটি নিয়ে তাড়াহুড়োর একমাত্র কারণ লোকসভার অধিবেশন ৮ মে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেই এই ১১৯ তম সংবিধান সংশোধন বিলটি পাস না হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে যাবে। মোদি জুন মাসে ঢাকা আসতে আগ্রহী।

গতরাতে অমিত শাহর অশোকা রোডের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। আসাম বিজেপির সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যকেও জরুরি তলব জানিয়ে ওই বৈঠকে আনা হয়।

বৈঠকে আসাম থেকে নির্বাচিত দলের সব সাংসদের সামনে সীমান্ত বিলের যাবতীয় খুঁটিনাটি, কংগ্রেসের আপত্তি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের চিঠি এবং কংগ্রেসের অনমনীয় ভূমিকার কথাও সেখানে ব্যাখ্যা করা হয়। বলা হয়, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ৪২ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। আর বিলম্ব সম্ভব নয়। এর সঙ্গে দেশের মর্যাদা জড়িত।

ওই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয়, বিলটি ঠিক যেভাবে রাজ্যসভায় রয়েছে, সেভাবেই পাস করানো হবে। আসামের ওপর এর যে প্রভাব পড়বে, তা বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।

বৈঠকের পর বিজেপির লোকসভা সদস্য রমেন ডেকা সাংবাদিকদের বলেন, দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। আমরা রাজ্যের মানুষদের বলব, কংগ্রেসের কারণেই এই বিল আমরা যেভাবে আনতে চেয়েছিলাম, তা পারলাম না। কংগ্রেসের মোকাবিলা আমরা রাজনৈতিকভাবেই করব।

বিজেপির আসাম রাজ্য সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বলেন, দেশের জন্য কী প্রয়োজন, তা আমাদের অনুধাবন করতে হবে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম আসামকে আপাতত বাইরে রেখে বিল পাস করাতে, কিন্তু কখনো চাইনি বিলটি রাজ্যসভায় ব্যর্থ হোক। তাই অখণ্ড বিলই আনার সিদ্ধান্ত। বিজেপি যে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এ সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় থাকালে ২০১৩ সালে পার্লামেন্টের ঊচ্চ কক্ষ রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপন করা হয়। ওই সময় বিলটি পার্লামেন্টের সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হয়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরকে প্রধান করে গঠিত সেই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের পক্ষে অভিমত দেয়।