বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিত্যব্যয়ী হওয়ার আহ্বান

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিত্যব্যয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শোখ হাসিনা। রোববার গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৩১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুদকেন্দ্রের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় চারটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ আমিন বাজারে একটি ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং লালবাগে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারত,ভুটান ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম অনেক বেশি স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে।

এ সময় দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ সমগ্র বাংলাদেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের আওতায় আনা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের আমলেই প্রথম অন্যদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটানের মধ্যে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে চতুর্দেশিয় আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের সক্ষমতা অর্জন করেছে বর্তমান সরকার এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ সময় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যুতের অনেক প্রকল্প হাতে নিলেও বিগত সরকারের আমলে তা সব বন্ধ করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিবর্তে খাম্বা লিমিটেড গড়ে তোলে বলেন তিনি।

পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদে এসে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বর্তমান সরকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই— বলে জানান তিনি।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে আরও প্রায় ৩১৫ মেগাওয়াট। নাটোরে ৫২ মেগাওয়াট, নারায়ণগঞ্জে ১০২ মেগাওয়াট, নরসিংদীতে ১০৮ মেগাওয়াট এবং মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। জ্বালানি হিসেবে নরসিংদীতে গ্যাস এবং বাকি তিনটিতে ফার্নেস ওয়েল ব্যবহার করা হবে।

পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১০ বা বিদ্যুৎ উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট। এ বর্ধিত চাহিদা মেটাতে সরকার বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালে নরসিংদীর ঘোড়াশালে ১০৮ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকার চুক্তি করে রিজেন্ট এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সঙ্গে।

আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টিতে সাড়ে ৫২ দশমিক মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রায় সাড়ে তিনশো কেটি টাকা ব্যয়ে এ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে সিনহা পিপলস এনার্জি।

নারায়ণগঞ্জে ১০২ মেগাওয়াট এবং নাটোরে ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটিও উৎপাদনে আসছে একই সময়ে। এই তিনটি কেন্দ্রেই প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হবে ফার্নেস ওয়েল। যাতে প্রতি ইউনিটের গড় ব্যয় হবে ১৫ টাকারও ওপরে।

সরকারের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালে কয়লা থেকে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট, পারমাণবিক ৪ হাজার, গ্যাস ও এলএনজি থেকে প্রায় ৯ হাজার, আঞ্চলিক গ্রিড থেকে সাড়ে তিন এবং জ্বালানি তেল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পানি থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।