বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42307_211বার্তাবাংলা ডেস্ক ::উৎসবের সব আয়োজন ও মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। শুধু যেন শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা। তবে সেটা যতটা না নাইজেরিয়া প্রস্তুত রেখেছিল তার চেয়ে বেশি রেখেছিল আফ্রিকার ছোট্ট দেশ বুরকিনা ফাসো। প্রথমবারের মতো এবারই তারা মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূরণ হতে দিলো না নাইজেরিয়া। রোববার দক্ষিণ আফ্রিকার সকার স্টেডিয়ামের ফাইনাল খেলায় নাইজেরিয়া ১-০ গোলে হারিয়েছে বুরকিনা ফাসোকে। ১৯৯৪ সালের পর আবারও তারা মহাদেশ সেরার শিরোপা উঁচু করে ধরলো মাথার ওপর। নাইজেরিয়া ১৯৮০ ও ১৯৯৪ সালের পর তৃতীয়বারের মতো ঘরে শিরোপা তুললে দলের কোচ স্টিফেন কেশি নাম লিখিয়ে ফেলেছেন এক অনন্য রেকর্ডে। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে এই শিরোপা জেতা দ্বিতীয় ব্যক্তি তিনি। ১৯৯৪ সালের শিরোপা জয় দলের অধিনায়ক ছিলেন কেশি। আর এবার কোচের ভূমিকায় ১৯ বছর পর শিরোপা এনে দিলেন নাইজেরিয়াকে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল মিশরের মাহমুদ আল গোহারির। আরও একটি রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন কেশি। দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ কোচ হিসেবে তিনি এই শিরোপার কারিগর। এর আগে ১৯৯২ সালে আইভোরি কোস্টের কোচ ইয়ো মার্তিয়াল প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ কোচ হিসেবে এই কীর্তি গড়েন। খেলার প্রথমার্ধ শেষের ঠিক পাঁচ মিনিট আগে নাইজেরিয়ার পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন সানডে এমবা। এমবার অসাধারণ গোলটি ছিল দেখার মতো। প্রথমে এমবার বাঁ-পায়ের দুরন্ত গতির শটটি গোলরক্ষক মোহাম্মেদ কফি প্রতিহত করে বল দূরে ঠেলে দেন। কিন্তু সেই উড়ন্ত বলে সজোরে আবারও বাম পায়ের আঘাত হানেন এমবা। বুলেটের মতো গিয়ে বল জড়িয়ে যায় বুরকিনার জালে। এমবা’র পাশাপাশি আহমেদ মুসা আর ভিক্টর মোসেজের গতির কাছে টুর্নামেন্টজুড়ে অপরাজিত থাকা বুরকিনাকে চেনাই যায়নি এদিন। টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত নাইজেরিয়াকেই ফাইনালে হট ফেভারিট ধরা হচ্ছিল। ৯০ মিনিটের খেলায় অধিকাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখে নাইজেরিয়ানরা। বুরকিনার খেলোয়াড়েরা এদিন কোন সমীহ-ই আদায় করে নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের দশ মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সমতা আনার দারুণ সুযোগ এসেছিল বুরকিনার সামনে। স্ট্রাইকার উইলফ্রেড সানোউ’র চমৎকার গোল হওয়ার মতো একটি শট প্রতিহত করে দেন সুপার ঈগলের গোলরক্ষক ভিনসেন্ট ইনায়েমা। এরপর আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বুরকিনাদের। বরং গোল দ্বিগুণ করার কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে নাইজেরিয়ানরা। শেষবার সুপার ঈগলরা ফাইনাল খেলেছিল ২০০০ সালে ক্যামেরুনের বিরুদ্ধে। সেবার টাইব্রেকারে হেরে যায় নাইজেরিয়া। তবে এবার পুঁচকে দল বুরকিনাকে সেই সুযোগ দিলো না সুপার ঈগলরা। আর বুরকিনা ফাসোর সর্বোচ্চ সফলতা ছিল ১৯৯৮ সালে সেমিফাইনাল খেলা। ম্যাচ শেষে নাইজেরিয়ার কোচ কেশি বলেন, আমি যখন ১৮ মাস আগে দলের দায়িত্ব পাই তখন লক্ষ্য ছিল নাইজেরিয়াকে একটি শক্তিশালী টিমে পরিণত করা। আমরা শিরোপা জয় করেছি। তবে এখনও শ্রেষ্ঠ হতে পারিনি। আমরা এখন সামনের দিকে তাকিয়ে আরও উন্নতি করতে চাই। আগের দিন ঘানাকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে মালি।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »