“লিমার ফলাফল হতাশাজনক”

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: লিমায় অনুষ্ঠিত ২০তম জলবায়ু সম্মেলন ফলাফল, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যান্ত হতাশাজনক। জলবায়ু পরির্তনের ফলে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো যে ক্ষতির মুখে পড়ছে তার ন্যায্যতা ও ক্ষতিপূরণ পেতে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর যে উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিল সেটি পারেনি দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। তবে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় আগামী সম্মেলনে প্রশমন, অভিযোজন, ন্যায্যতা ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে যদি সরকার, নাগরিক সমাজ, গনমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করে তাবে বাংলাদেশ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “লিমার কপ-২০ এর ফলাফল পর্যালোচনা ও পরবর্তী সম্মেলনে করনীয়” নিয়ে ঢাকার ডেইলি স্টার ভবনে আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিসিএডি) এই আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড ডেভেলপমেন্ট এর পরিচালক ড. আতিক রহমান বলেন, “উন্নয়নশীল দেশের জন্য লিমায় অনুষ্ঠেয় কপ-২০ সম্মেলনের ফলাফল শূণ্য। কেননা এর উপর ভিত্তি করে প্যারিস ন্যায়সঙ্গত চুক্তি গ্রহন করতে ব্যর্থ হবে, যদিনা কোন ভাল পরিবর্তন গৃহীত হয়।”।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক ড. সলিমুল হক বলেন, লিমার সম্মেলনের নেতারা জলবায়ু পরির্তনে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। নেতারা শধুমাত্র প্রশমনের বিষয়টিতে গুরুত্বে দিয়েছে। কিন্তু অভিযোজনের বিষয়ট এড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, “লিমা ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের গুরতর চাহিদাসমুহকে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। শংকার কথা হল, লিমার ফলাফলরম বিপদাপন্ন দেশসমূহে জানমাল, জীবিকা, বাস্তুসংস্থানের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করবে। ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষে Loss and Damage এর এই সমস্ত বিষয় সমূহ অবশ্যই ২০১৫ এর চুক্তিতে প্রতিফলিত হওয়া উচি “।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “দোহার জলবায়ু সম্মেলনে জলবাযূ ইস্যুতে নারীর অধিকার নিয়ে যে অগ্রগতি হয়েছিল তা পেরুতে এসে হোচেট খেয়েছে। “ক্লাইমেটে জেন্ডার ইক্যুয়িটি”-তে আমরা বড় ধরনের ধক্কা খাই। পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের কথা মাথায় না নিয়ে ‍দুর্যোগ মোকাবেলা, প্রশমন যাই বলি না কেন তা সম্ভব না”। তিনি বলেন, “পরিবেশগত বিষয়গুলো ছেড়ে দেয়ার উপায় নেই। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ২০১৫ সাল ব্যাপি একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে মিডিয়াকে একটা বড় ভূমিকা রাখতে হবে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের অধিকার আমাদেরকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে”।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজ এর ফেলো গোলাম রাব্বানী বলেন, “আমাদের সকলের দাবি পরবর্তী জলবায়ূ সম্মেলনে আমরা ন্যায্যতা পাব।”

আলোচনায় উঠে আসে, গত চার বছর যাবৎ গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড এর জন্য বরাদ্দকৃত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খুবই সামান্য। এই বরাদ্দ ২০২০ সালের মধ্যে বৃদ্ধি করে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার করার ব্যপারে কোন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নেই, যা যথাযথ প্রতিশ্রুতি, চিন্তা এবং উন্নত বিশ্বের কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবের ফলাফল। উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ গুলোর প্রতি দরিদ্র, বিপদাপন্ন দেশ সমূহের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার অধিকারের আহবান বরাবরের মতই অস্বীকৃত রয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্যারিস এর জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ২০১৫ এর ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য কপ২১ বৈশ্বিক নেতাদের জন্য শেষ সুযোগ। সেখানে তারা যাতে প্রমান করতে পারে যে তারা পৃথিবীর কল্যাণের জন্য উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করতে সম্মত এবং ইচ্ছুক। ২০১৫ এর সকল আলোচনা, নীতি নির্ধারণী এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অবশ্যই নারী-পুরুষ সমতা মূল কেন্দ্র বিন্দুতে থাকতে হবে, অন্যথায় পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়বে এবং স্থায়িত্তশীল উন্নয়নের ধারনা কেবলই স্বপ্ন থেকে যাবে।

জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আলোচনায় বর্তমান অগ্রগতিকে মাথায় রেখে, জাতীয় পর্যায়ে, সুশীল সমাজের দায়িত্ব হল সরকারের সাথে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করা। বিশেষ করে, অন্নুনত এবং ছোট দেশসমূহের সরকারের উচিত হবে না এমন কোন চুক্তিতে সম্মত হওয়া যা সাধারণ মানুষের জীবন ধারনকে বাধাগ্রস্থ করবে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের একত্রিত হয়ে আলোচনায় বসা দরকার এবং এই বার্তা প্রচার করা দরকার যে বাংলাদেশ এমন কোন চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক গ্রহন করবে না যা যথার্থ ও ন্যায়সঙ্গত নয়।