হাজারীবাগের অবৈধ কারখানা বন্ধে বিশেষ অভিযান

বার্তাবাংলা ডেস্ক ::  হাজারীবাগ এলাকার অবৈধ ও বিষাক্ত ফিড উৎপন্নকারী সবগুলো কারখানা বন্ধে বিশেষ অভিযানের দাবি জানিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প সংশ্লিষ্ট ৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘পোল্ট্রি শিল্প সমন্বয় কমিটি’ (বিপিআইসিসি)।

শনিবার গুলশানস্থ ‘ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (ফিআব) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিপিআইসিসি’র এক সভায় বক্তারা এ দাবি জানান।

বিপিআইসিসি’র আহ্বায়ক মসিউর রহমান বলেন, হাজারীবাগের বিষাক্ত ফিড তৈরির কারখানা নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও খুব জোরালো অভিযান চোখে পড়ছেনা।

তিনি বলেন, হাজারীবাগ এলাকায় যত্রতত্র ট্যানারির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুধু হাজারীবাগ নয় বরং হাজারীবাগ থেকে শুরু করে গাবতলী বেড়িবাঁধ ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা এ ধরনের সবগুলো কারখানা অবিলম্বে বন্ধের জন্য কঠোর সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানান তিনি।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) সভাপতি ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট পোল্ট্রি ফিডের মাত্র শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম ফিডে ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ বলা যায় দেশের প্রায় ৯৯.৮ ভাগ পোল্ট্রি ফিডেই ট্যানারির বর্জ্য কিংবা ক্ষতিকর উপাদান থাকেনা। ভোক্তাদের আমরা নিরাপদ ডিম ও মুরগির মাংসের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর সে কারণেই সরকারের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিইএ) সাধারণ সম্পাদক এম এম খান বলেন, গবেষকগণ ট্যানারির বর্জ্য মিশ্রিত ফিড মুরগিকে খাওয়ানোর পর তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। এটা খুবই স্বাভাবিক যে, ক্রোমিয়ামযুক্ত খাবার শুধু মুরগি কেন মানুষকে খাওয়ালেও তার শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে।

এনিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আহকাব) এর সাধারণ সম্পাদক ডা. এম. নজরুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি’র ডিম এবং মুরগির মাংসের মত নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যকে যারা দূষিত করার চেষ্টা করছে তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এগ প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইপিএবি) সভাপতি আবু তাহের বলেন, ফিডে ট্যানারির বর্জ্য বন্ধের জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এটিও খেয়াল রাখতে হবে যেন মানুষ ভীত হয়ে ডিম কিংবা মুরগির মাংস খাওয়া কমিয়ে বা বন্ধ করে না দেয়।