ট্রাইব্যুনাল ঘেরাওয়ের ঘোষণা » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Saimon-smsm20130210070951বার্তাবাংলা ডেস্ক ::টানা সপ্তম দিনে শাহবাগ আন্দোলন। তারুণ্যের প্রতিবাদে, মিছিলে-স্লোগানে পার হচ্ছে ক্লান্তিহীন দিন-রাত্রি। সকাল থেকে চলা সমাবেশ বিকাল গড়ালেই রূপ নিচ্ছে মহাসমাবেশে। ব্লগারদের আন্দোলন এখন সব শ্রেণী-পেশার মানুষের। স্কুল-কলেজ শেষে বই হাতে এখানে আসছেন শিক্ষার্থীরা। খেলার মাঠের ক্রিকেট যোদ্ধারাও শাহবাগের সহযাত্রী। বিরামহীন আন্দোলনে শরিক হতে আসছেন শিল্পী-গুণীজনরাও। ভিন্ন স্লোগানে, এক দাবিতে সোচ্চার সবাই। রাতের মশাল আর মোমের আলোতে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে প্রতিবাদের এই জাগরুক ক্যানভাস। গতকাল বিকালে স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলন রূপ নেয় মহাসমাবেশে। আগামী ১৪ই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয়া হয় শাহবাগ স্কয়ার থেকে। শপথ গ্রহণ করা হয় ফাঁসির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। বিকালে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ছয়দফা দাবিতে স্পিকারকে দেয়া হয় স্মারকলিপি। এদিকে যুদ্ধাপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের সমান সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ। গতকাল আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ। জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে শুরু করে জাতীয় ফুটবল দল, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও জানিয়েছে সমর্থন। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকাল থেকেই মাথায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি লেখা পট্টি বেঁধে, গায়ে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সমাবেশে যোগ দেন নানা বয়সের মানুষ। জনতার এই আন্দোলনে যোগ দিতে সুদূর প্রবাস থেকেও চলে এসেছেন অনেকে। সবার মুখেই ছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগান, গণসংগীত, বিদ্রোহী কবিতা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই জনসাধারণের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দেন। অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল স্কুল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলড্রেস পরেই চলে আসেন। আর ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা স্কুল শেষ করে মায়ের হাত ধরে এসে যোগ দেয় আন্দোলনে।
‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, রাজাকারদের ফাঁসি দে, লাখো শহীদ ডাক পাঠালো, সব সাথীরে খবর দে, সারা বাংলা ঘেরাও করে রাজাকারদের কবর দে, এ ধরনের নতুন স্লোগানে মুখর ছিল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। নেই ক্লান্তি, নেই বিরাম। একই সঙ্গে চলে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড নামের একটি সংগঠন প্রতিদিনের মতো গতকাল মানুষের মনের ক্ষোভপ্রকাশ করতে কয়েকশ’ হাত লম্বা সাদা কাপড় বিছিয়ে রাখেন। সেখানে নানা শ্রেণীর মানুষ তাদের মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বেলা ১২টার দিকে অপূর্ব নামের প্রথম শ্রেণীর এক ক্ষুদে শিক্ষার্থী মুজিব কোট পরে উপস্থিত হয়। সে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ মুখস্থ  সমাবেশে বলেন। এসময় উপস্থিত জনতা ভাষণ শুনেন এবং হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এরপর হবিগঞ্জ থেকে সংহতি জানাতে আসা এক মুক্তিযোদ্ধাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে সমাবেশে কাদের মোল্লার কুশপুত্রলিকা একটি লাঠিতে ঝুলানো হয়। এরপর সবাই তাতে জুতা নিক্ষেপ করেন। বেলা ২টার দিকে এক ব্যক্তি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ভাষণ ব্যঙ্গাত্মক করে উপস্থাপন করেন। তিনি ওয়াজের সুরে বলেন, ভাই-বোনেরা শুনেন, ১৯৭১ আর ২০১৩ একাকার হয়ে গেছে। সেদিন ঘোষণা করা হয়েছিল- আমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আর আজকে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ভাই-বোনেরা একত্রিত হয়েছে। বেলা আড়াইটার দিকে জিহাদ নামের এক তরুণ কাদের মোল্লা সেজে সমাবেশে উপস্থিত হন। তিনি কাদের মোল্লার মতো দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবি পরেন। এসময় একটি লাঠিতে রশি লাগিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়। কয়েকজন বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী তার রশি ধরে টান দিলে তিনি জিহ্বা বের ফাঁসির দরিতে ঝোলানো ব্যক্তির মতো অভিনয় করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি সমাবেশ থেকে বের হয়ে পূর্বদিকে রাস্তায় শুয়ে পড়েন। এসময় জনতা তাকে জুতা ও বোতল নিক্ষেপ করে ধিক্কার জানান। বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন চলচিত্র পরিচালক ও প্রযোজক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম খোকন ও চলচিত্রকার সিবি জামান। শহীদুল ইসলাম খোকন সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় বলেন, চিত্রজগতের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনে সমর্থন জানাতে এসেছি। আমি রাজাকারদের নিয়ে একটি ছবি নির্মাণ করেছিলাম। এর জন্য আমাকে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছিল। তারপরও আমি দমিনি। এখন আর এই তরুণ প্রজন্মকে কেউ দমাতে পারবে না। চলচিত্রকার সিবি জামান বলেন, নতুন প্রজন্মের এই উৎসাহ-উদ্দীপনাকে আমি সমর্থন জানাই। আমি আশা করছি, সরকার এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী রায়গুলোতে ফাঁসি দেবে। আমি রাজাকারদের ফাঁসি দাবি করছি। ব্লগার অ্যান্ড অক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের এক সদস্য সমাবেশে বলেন, ফেসবুক ও ব্লগারের বন্ধুরা এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। এরপর তা  দেশের ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম হলো এই নতুন প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধের অসমাপ্ত কাজ শেষ করে ইতিহাস তৈরি করতে চাই। তিনি বলেন, রাজাকারদের ফাঁসির দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত  আমাদের এই আন্দোলন চলবে। তারপর তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে একটি ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হচ্ছে। এ ঘোষণা শোনার পরপরই আন্দোলনকারীরা উল্লসিত হয়ে পড়েন। তিনি সংসদ সদস্যের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তাছাড়া বিকালে প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে বলা হয়, ১৪ই ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর রায় ঘোষণা করা হবে। ওই দিনই অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘেরাও করা হবে। এদিকে দুপুরের পর থেকে জনতার স্রোত বাড়তে থাকে। সকালে কিছু সময়ের জন্য শাহবাগের এক পাশের রাস্তা খুলে দেয়া হলেও জনস্রোতের কারণে দুপুরের পরই তা বন্ধ করে দেয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে পুরো এলাকা মহাসমাবেশে রূপ নেয়। রাতভর চলে এই আন্দোলন।
আন্দোলনের স্থান স্থানান্তরের পরিকল্পনা
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন স্থান শাহবাগ থেকে সরানোর পরিকল্পনা চলছে। সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান নিয়ে আলোচনা চলছে আন্দোলনকারীদের মধ্যে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শাহবাগ থেকে আন্দোলন সরানো হবে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে জাতীয় জাদুঘরের সামনের রাস্তা, চারুকলা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শহীদ মিনার, রাজু ভাস্কর্য ও ঢাবি’র অপরাজেয় বাংলাকে পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্লগার আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ডা. ইমরান এইচ সরকার। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আমাদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এটাও ভাবা হচ্ছে কিভাবে গাড়ি চলাচল ও আন্দোলন দুটোই একসঙ্গে করা যায়। তিনি বলেন, সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানও দেখা হচ্ছে। যেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে সেটাই বিবেচনা করা হবে।
সংহতি প্রকাশ
শাহবাগ স্কয়ারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। গতকাল বিকাল তিনটার দিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন আকতার সুলতানার নেতৃত্বে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কমর্মকর্তারা সংহতি প্রকাশ করে। এ সময় বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান, অধ্যাপক ড. আহাদুজ্জামান  মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, প্রভাষক কাজলী সেহরীন ইসলামসহ বিভাগের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংহতি জানিয়েছেন বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরাও। জাতীয় যাদুঘরের সামনে আয়োজিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে স্বাক্ষর দিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেন অনেকেই। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি প্রকাশ করছেন শাহবাগ স্কয়ারের সংহতি মঞ্চে। এছাড়া রাজধানীর বাইরে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সংগঠন এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে। এসময় সংহতি প্রকাশ করা সবাইকে সমাবেশ মঞ্চ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।
নিরাপত্তা বাড়ছে
গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চললেও গতকাল থেকে শাহবাগ চত্বরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পাশাপাশি সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও সেখানে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। রাতের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সকাল ৮টায় চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সকালের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা এসে পড়েন। তারা থাকা অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে আরও অতিরিক্ত পুলিশ আনা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পূর্বে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন। এছাড়া রমনা জোনের ডিসি সৈয়দ নূরুল ইসলাম ও দু‘জন সহকারী পুলিশ কমিশনার সার্বক্ষণিক সমাবেশস্থলে নজরদারি করছেন। গণজাগরণ চত্বরে প্রবেশের চারটি পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি সাদা পোশাকের ডিবি পুলিশের একটি দল পুরো চত্বরজুড়ে নজর রাখছে। সরকারের সব  গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকালই বেশি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইমানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এখানে সার্বক্ষণিক কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখছি। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে সদা তৎপর রয়েছি।
শাহবাগ স্কয়ারে দীপু মনি
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ চত্বরে সংহতি প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তবে তিনি কোন বক্তব্য রাখেননি। গতকাল দুপুর পৌনে ১টায় মঞ্চে এসে উপস্থিত হন তিনি। এসময় তিনি হাত নেড়ে আন্দোলনকারীদের অভিবাদন জানান দীপু মনি। বেলা ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে গণজাগরণ চত্বর ত্যাগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দখলে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’
বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা আসছেন শাহবাগে। একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এখন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দখলে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে জড়ো হয়েছেন। ঢাকার ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস শেষ করে এখানে উপস্থিত হয়েছেন। তারা শাহবাগ স্কয়ারের বিভিন্ন স্থানে বসে একাত্তরে মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজ, পাবনা সরকারি কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, তিতুমীর কলেজ, ইউনাইটেড বিশ্ববিদ্যালয়, রেডক্রস কলেজ, গাজীপুর ভাওয়াল কলেজ, মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজ, ঢাকা পলিটেকনিং কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ মহসিন বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে উপস্থিত হয়েছে।
ফুল নিয়ে অপেক্ষা
চারুকলার সামনে ফুল দিয়ে আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যখানে দক্ষিণ দিকে মুখ করে বসে আছেন একজন বৃদ্ধ। সামনে একটি মোমবাতি ও দিয়াশলাইয়ের বাক্স। মানচিত্রের মাঝখানে বসে থাকা লোকটির বুকে ঝুলছে একটি লেখা ‘অপেক্ষা’। তার নাম শাহাদাত। তিনি চারুকলার সামনের ফুটপাতের ব্যবসায়ী। তিন দিন ধরে তিনি নিজের ব্যবসা বন্ধ  রেখে এভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তিনি অপেক্ষা করছেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির জন্য। শাহাদাত জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তিনি এভাবে বসে বা শুয়ে থাকেন।
বিদেশীরাও শাহবাগে
বেলজিয়াম অধিবাসী জেফভ্যান হোকন। দোভাষী ঢাকার সোহরাব হোসেনকে নিয়ে এসেছেন শাহবাগ স্কয়ারে। সহযোগী নিয়ে লেক্সাস বিসু্কট বিলি করছেন। সেই সঙ্গে ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ধারণ করছেন আন্দোলনরত হাজারও মানুষের উচ্ছ্বসিত দৃশ্য। আরেক বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশে আন্দোলনরত জনগণের মুখরিত স্লোগানের সেই দৃশ্য স্বচক্ষে দেখে অভিভূত। জানতে চাওয়া হয়েছিল তার প্রতিক্রিয়া। তিনি জানান, দুদিন আগে ঢাকায় এসেছি। বাংলাদেশের আবাল-বৃদ্ধ-যুবকেরা মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করছে। এ কথা শুনে সহযোগীকে নিয়ে চলে এলাম। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছি। এখানে এসে মনে হলো- মানুষের মধ্যে সেই চেতনা ছড়িয়ে পড়েছে। আমার খুব ভাল লেগেছে। দেশের প্রতি যুবকদের এ ভালবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে।
খাবার বিতরণ
প্রতিদিনের মতো গতকাল শাহবাগের আন্দোলনরতদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। তাছাড়া অনেক রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠনও খাবার বিতরণ করেন। অনেকে বাসা থেকে খাবার রান্না করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিতরণ করেন। তাছাড়া কিছুক্ষণ পরপরই খাবার বৃষ্টি হয় শাহবাগ স্কয়ারে। অনেকে বিস্কিট, চানাচুর, রুটি, কলা, চকলেট, পিঠা, পানি সমবেত জনতার উদ্দেশে ছুড়ে দেন। দুপুরে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এই দৃশ্য চলে দিনভর।
প্রদীপ জ্বালিয়ে ফাঁসির দাবি
সন্ধ্যায় হাজার হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে সমস্বরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গগণ-বিদারী আওয়াজ উঠছে হাজারো প্রতিবাদী কণ্ঠে। আন্দোলনকারীরা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাজপথে বাংলাদেশের মানচিত্র তৈরি করেন। অনেকে মোমবাতি দিয়ে ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখেন। গভীর রাত পর্যন্ত চলে আন্দোলনকারীদের প্রদীপ প্রজ্বলন।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »