রাজনীতির কাছে বন্দী স্থানীয় নির্বাচন

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন রাজনীতির কাছে বন্দী হয়ে আছে। ক্ষমতাসীনরা হারতে চায় না বলেই নির্বাচন হচ্ছে না। জেলা পরিষদ ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন তাদের গলার কাঁটার মত আটকে আছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইবি লাউঞ্জে সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন চাই’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন।

সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা স্থানীয় সরকারের কথা মুখে বললেও রাজনৈতিক কারণে কার্যত তা স্বীকার করেন না। আর হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আটকে আছে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচন হোক। কিন্তু কার কাছে নির্বাচনের কথা বলব। কেউ যদি চোখ কান বন্ধ করে রাখে তাহলে তাকে বলার কিছু নেই। এ বিষয়ে আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে।’

এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সারাদেশে ৩০০ আসনের জন্য যদি সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়। তাহলে ঢাকা সিটিতে সীমানা জটিলার অজুহাত দিয়ে নির্বাচন আটকানোর কোনো প্রশ্নই আসে না।’ সরকার স্থানীয় সরকারের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিরোধীদলহীন এ সরকার নির্বাচন চায় না এবং নির্বাচন হওয়া দরকার এমন কথাও তারা ভাবে না। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই আটকে আছে এসব নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কি উদ্দেশ্যে কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। আসলে নাগরিকের স্বার্থে নাকি অন্য কোন ব্যক্তির স্বার্থে সেটা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে অনির্বাচিত শাসকের দ্বারা শাসন পরিচালিত হওয়ার কারণে সংবিধান লঙ্ঘন হচ্ছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোন সরকার জেলা পরিষদ নির্বাচন দেয়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ঢাকা সিটির নির্বাচন না দেওয়া সংবিধান এবং মৌলিক অধিকার বিরোধী। জনগণের সবচেয়ে বড় বাক স্বাধীনতা হলো ভোটধিকার। সেখানে নির্বাচন না দিয়ে সরকার সরাসরি মানবধিকার লঙ্ঘন করেছে।’

সাবেক সাংসদ এস এম আকরাম বলেন, ‘সংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সংসদ সদস্যদের তা করতে দিতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার সমস্যা দূর হবে না। অস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং পরিবারকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে স্থানীয় সরকার কার্যকর হচ্ছে না।’

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।