বছর শুরুতে দারুণ শেষে বিতর্কিত নিপুণ

বার্তাবাংলা ডেস্ক ::  প্রতিদিনই বদেলে যাচ্ছে চলচ্চিত্রের ভাষা। দর্শকের রুচীও বদলে যাচ্ছে প্রতি নিয়তই। ঢাকাই সিনেমাতেও এসেছে পরিবর্তন। দেশের সিনেমা এখন ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। সেদিক থেকে ২০১৪ সালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বছরটি কেমন কাটল চলচ্চিত্রের জন্য এবং কেমন ছিল শিল্পীদের জন্য। এ নিয়ে রাইজিংবিডি ‘ঢাকাই চলচ্চিত্রে ২০১৪ সাল’ শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আজ এই সিরিজের দ্বিতীয় প্রতিবেদনে চিত্রনায়িকা নিপুণকে নিয়ে থাকছে বিশেষ প্রতিবেদন।

চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল, শুক্রবার সারা দেশে ৪২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্র ‘মায়ের মমতা’।  সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান বাবু। এতে মায়ের চরিত্রে দেখা গেছে  সুচরিতাকে এবং সিনেমার নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিপুণ। তার বিপরীতে ছিলেন চিত্রনায়ক ইমন।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ায় হলগুলোতে দর্শক তেমন যেতে পারেনি। তবে যারা দেখেছেন তারা সিনেমাটির প্রশংসা করেছেন। চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করেন ‘মায়ের মমতা’ সিনেমাটি দর্শকদের হলমুখী করার মতো একটি সিনেমা।

এর পর ২৩ মে, সারা দেশে ৬০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে এমএ আউয়াল পরিচালিত ‘কাছের শত্রু’। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আমিন খান, নিপুণ, সম্রাট, রোমানা, আহমেদ শরীফ, কাজী হায়াৎ প্রমুখ। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন  টার্ম ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার এমএ কাশেম শাহরিয়ার। এ সিনেমাটি তেমন আলোচনায় না আসলেও এটি ভালই ব্যবসা করেছে।

এ বছরে মুক্তি পাওয়া নিপুণ অভিনীত তৃতীয় সিনেমা `আই ডোন্ট কেয়ার। সিনেমাটি নিয়ে নিপুণসহ সিনেমার কলাকুশলীরা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরেন। এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাপ্পি, ববি, নিপুণ ও আদি। অ্যাকশন ধাঁচের এ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ হোসেন।

সিনেমাটির পোস্টারে অশ্লীল ছবি ব্যবহার করায় এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবরও প্রকাশিত হয়। `আই ডোন্ট কেয়ার` সিনেমাটি যেন সিনেমার নামের সঙ্গে মিল রেখে সত্যিই যেন ডোন্ট কেয়ার। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সিনেমাটির নোংরা পোস্টার ব্যবহার করেই মুক্তি দেন সিনেমার প্রযোজক।

এর সংগীত করেছেন শওকত আলী ইমন, আহমেদ হুমায়ুন ও অদিত। অ্যাকশন দৃশ্য পরিচালনা করেছেন জি. এইচ, চুন্নু, নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন মাসুম বাবুল।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন এ ধরনে অশ্লীল পোস্টার বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। এতে করে বাংলা চলচ্চিত্র হারাবে অতীত ঐতিহ্য। সব মিলিয়ে সিনেমাটি বির্তকিত ছিল। নিপুণ ২০১৪ সালে প্রশংসা দিয়ে শুরু করলেও শেষ করেছেন বিতর্ক দিয়ে। যে দায় এড়াতে পারবে না তিনি।