পাসপোর্ট করতে গিয়ে নারীসহ আটক ৬

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  পাবনায় অবৈধভাবে পাসপোর্ট করতে আসা পাঁচ রোহিঙ্গা নারী ও এক দালালকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটককৃত রোহিঙ্গা নারীরা হলেন- বার্মার আরাকান রাজ্যের মন্ডু জেলার মৃত দিল মুহাম্মদের মেয়ে ছকিনা (২২), মৃত জাকের আলীর মেয়ে ফারেছা (২৫), মৃত হারুন-অর-রশিদের মেয়ে জেসমিন (২০), মৃত আবুল কাশেমের মেয়ে হুমায়রা (২২) ও মৃত সৈয়দ হোসেনের মেয়ে ছমিরা (২০)। আটক দালাল হলেন, কক্সবাজার জেলার পাকাশিয়া খালির মৃত শফিক ইসলামের ছেলে ইলিয়াস হোসেন (৪০)।

পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী হানিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে যে, বেশ কিছুদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের বাঙালী সাজিয়ে অবৈধভাবে পাবনা থেকে পাসপোর্ট করে বিদেশে পাচার করছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে পাঁচ রোহিঙ্গা নারীসহ এক দালালকে আটক করে। সন্ধ্যায় আটককৃতদের পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে রোহিঙ্গা নারীরা জানান, তারা গত ৩-৪ বছর আগে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এখন তারা পাসপোর্ট করে বাঙ্গালি সেজে সৌদি আরবসহ মধ্যপাচ্যের দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

আটককৃত দালাল ইলিয়াস হোসেন পুলিশকে জানায়, পাবনার পার-ফরিদপুর এলাকার জনৈক আফজাল হোসেনের সহায়তায় তারা রোহিঙ্গাদের বাঙ্গালি সাজিয়ে পাবনায় পাসপোর্ট করতে এসেছিল। এর আগে এই চক্র চার রোহিঙ্গাকে পাবনা অফিসের মাধ্যমেই পাসপোর্ট করে দিয়েছে বলেও জানান ইলিয়াস।

পাবনার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ সন্ধ্যায় এক প্রেসব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মিদের জানান, রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি সেজে পাবনা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি চক্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট করে বিদেশে যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলার পুলিশ প্রশাসন কয়েকদিন ধরেই বিশেষ নজর রাখছিল পাসপোর্ট অফিসে। আজ ছয় জন আটক হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সুপার আরো জানান, তার হাতে সন্দেহজনক আরো ১৪টি পাসপোর্টের তদন্ত রিপোর্ট আটকা রয়েছে। যাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে ঐসব পাসপোর্টগুলোও রোহিঙ্গাদের হতে পারে।