বিএনপি ক্ষমতার জন্য বিদেশিদের কাছে হাত পেতে আছে

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্তির এক সেকেন্ড আগেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মেয়াদ পূর্তির এক সেকেন্ড আগেও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে হটানো যাবে না। তাই এসব চিন্তা বাদ দিয়ে বিএনপির নেত্রীর উচিত আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া, যাতে অন্তত তাদের জামানত রক্ষা হয়।’

শনিবার দুপুরে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আশরাফ বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী ক্ষমতার জন্য এখন বিদেশিদের কাছে হাত পেতে বসে আছেন। কিন্তু কোন বিদেশি শক্তিই তাকে ক্ষমতায় বসাতে পারবে না।’

ভারতে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসায় তিনি উৎসাহিত হয়েছিলেন মন্তব্য করে আশরাফ বলেন, ‘তাতে কাজ হয়নি; মনমোহন সরকারের চেয়েও মোদি সরকার আওয়ামী লীগকে বেশি পছন্দ করে।’

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের সঙ্গে গতকাল খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের বিষয় ইঙ্গিত করে আশরাফ  আরও বলেন, ‘ওই দু’জনের ছবি দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি নেত্রী ক্ষমতার জন্য হাত পেতে বসে আছেন। সদ্য বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনাও এদেশের নির্বাচন বানচাল ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার বাইরে রাখার অনেক চেষ্টা-তদবির করেছেন। কোন কিছুতে কিছু হবে না।’

দলের মহানগর সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুউল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল রাজ্জাক এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, খুলনা জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি। সম্মেলনে সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি।

সম্মেলনের উদ্বোধনকালে সাবেক মন্ত্রী ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি দলকে সংগঠিত করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,‘বঙ্গবন্ধু বলতেন, আওয়ামী লীগের প্রাণ নেতা, আদর্শ, সংগঠন ও কর্মী। তিনি মন্ত্রীর মায়া ত্যাগ করে সেভাবেই দলকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। পাকিস্তানী এজেন্টরা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে তাঁর নাম নেওয়ার কেউ থাকবে না।’

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে ফজলুল করিম সেলিম  বলেন, ‘জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, সন্ত্রাসীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি রাষ্ট্রদূত করার মাধ্যমে পুরষ্কৃত করেছেন। তেমনিভাবে তাঁর স্ত্রীও স্বাধীনতাবিরোধীদের রক্ষার চেষ্টা করছেন। নির্বাচন বানচালের নামে আড়াই হাজার সাধারণ মানুষ, ৪০ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ই এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হবে।’

শেখ সেলিম আরও বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী ট্রেন ফেলের দায় আওয়ামী লীগের নয়; সংবিধানের বাইরে কোন নির্বাচন হবেনা। আর এক’শ বছরে কেয়ারটেকার সরকার হবেনা। আর বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে দলের অবস্থা হবে মুসলিম লীগের মতো।’

এদিকে  নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশন সন্ধ্যায় নগরীর অফিসার্স ক্লাবে শুরু হয়েছে।

হাজারো নেতাকর্মীর সরব উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নগরীর সার্কিট হাউজ ময়দানে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো এ কাউন্সিল।