গ্রেফতারের ভয়ে মসজিদে লুকিয়ে থাকতো এনামুল » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

RAB-HQ-Harun-0520130209053023বার্তাবাংলা ডেস্ক ::সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি এনামুল গ্রেফতারের ভয়ে বিভিন্ন মসজিদ, সিনেমা হলে রাত কাটাতেন।

গত বছর পশ্চিম রাজাবাজারের ফ্লাটে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর শেরেবাংলা থানা পুলিশ এনামুলকে ‍আটক করে। ওই দিন রাতে গোয়েন্দা পুলিশ তাকেসহ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে গোয়েন্দা (ডিবি) অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়।

ঘটনার পর আরও ১০ থেকে ১২ দিন এনামুল ওই বাসায় নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

শনিবার ভোর রাতে সিলেটের শ্রীমঙ্গল যাওয়ার পথে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ৠাবের গোয়েন্দাদের কাছে নিজের নাম পরিচয় গোপন করেন এনামুল। পরে তাকে কড়া প্রহরায় ঢাকায় আনা হয়।

সকালে ৠাব সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৠাবের মহাপরিচালক মোকলেছুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে এনামুলের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনামুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

কে এই এনামুল?
এনামুল মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামের মকবুল হোসেন কালার ছেলে। এনামুল ছোট বেলায় বাবার ফার্নিচারের দোকানে রং মিস্ত্রির কাজ করতেন।
নানার বাড়ি কাঠাল তলিতে বেড়াতে গিয়ে একটা বাইসাইকেল চুরি করে এনামুল। সে সময় প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন থানা হাজতে কাটান। পরে মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়।

এনামুলের বিভিন্ন অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে তার বাবা তাকে তাবলিগ জামায়াতের তিন মাসের চিল্লায় পাঠিয়ে দেন। সে সময় কাকরাইল মসজিদ থেকে রমনা পার্কের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে হারিয়ে যায় এনামুল।

এরপর কারওয়ান বাজারে সিলেট হোটেল ও গরীবে নেওয়াজ নামে দু’টি হোটেলে ‘বয়’ হিসেবে কাজ করেন।

২০১০ সালের প্রথমদিকে হোটেলের চাকরি ছেড়ে তিন হাজার পাচঁ শ’ টাকা বেতনে ‘শেরে-এ-খোদা’ নামে একটা সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ নেন। সেখানে চাকরিরত অবস্থায় মডার্ন হাসপাতাল ও লালবাগ এলাকায় সুরিয়া ভিলা নামে একটা অ্যাপার্টমেন্টে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরি করেন।

ওই কোম্পানির নিরাপত্তা সুপারভাইজার কামরুল তাকে গত বছর জানুয়ারিতে পশ্চিম রাজাবাজারের ‘শাহজালাল লজ’ এর নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেন।

২০১১ সালের ১০ ফ্রেরুয়ারি রাতে পশ্চিম রাজাবাজারের ‘শাহজালাল লজ’ এর  ফ্লাটে সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনি হত্যার ঘটনার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হয় এ এনামুল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই অ্যাপার্টমেন্টে মাস শেষে বেতন নিয়ে ‘রয়েল সিকিউরিটি’ নামে অন্য একটা কোম্পানিতে কাজ নেন। সেখানে অন্য পরিচয় দিয়ে চাকরি নিয়ে আত্মগোপন করেন এনামুল।

যেভাবে গ্রেফতার এনামুল
ৠাবের গোয়েন্দা দল উচ্চ আদালতের নিদের্শে সাংবাদিক দম্পত্তি  সাগর-রুনি হত্যা মামলা তদন্তে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। মোট ১ শ’ ২৭ জন ব্যাক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে আট ব্যক্তিকে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ১৬ ব্যক্তির ডিএনএ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

ৠাবের ভয়ে এনামুল বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে রাজধানীতে কাজ করতেন। সর্বশেষ ফার্মগেট এলাকার ‘রয়েল সিকিউরিটি’ নামে একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

শুক্রবার রাতে সেখান থেকে হঠাৎ ট্রেনে করে সিলেটের শ্রীমঙ্গল যাওয়ার জন্য রওয়ানা হন এনামুল। শনিবার ভোর রাতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া রেলস্টেশনে নেমে যায়। তাকে অনুসরণ করতে থাকে ৠাবের গোয়েন্দা দল। ৠাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে এনামুল। পরে তাকে আটক করে ঢাকার ৠাব সদর দফতরে আনা হয়।

এনামুলের গ্রেফতার প্রসঙ্গে ৠাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান বাংলানিউজকে বলেন, “বিভিন্ন তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এলামুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকদিন থেকে আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। গ্রেফতার এড়াতে এনামুল রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, সিনেমা হলে রাত কাটাতেন বলে তাকে শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।”

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »