ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে মাশরাফির পরিকল্পনা

বার্তাবাংলা ডেস্ক ::  জিম্বাবুয়েকে টেস্ট সিরিজে ৩-০তে ধবলধোলাই করার পর ওয়ানডে লড়াইয়ে মাঠে নামছে টাইগাররা। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম দিবা-রাত্রির ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর দেড়টায়। টেস্ট সিরিজে মতো ওয়ানডে সিরিজেও ভালো কিছু করতে চায় স্বাগতিকরা।

বৃহস্পতিবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে মাশরাফি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজে আমরা খুব ভালোভাবে জিতেছি। এটা অবশ্যই আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেবে। টেস্টে যারা ভালো খেলেছে তাদের জন্যে ওয়ানডেতে হয়তো কাজটা অনেক সহজ হবে। তাদের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটাও বেশ ভালো থাকবে। এটা পুরো দলের উপর একটা ভালো প্রভাব ফেলতে পারে।’

২০১৪ সালের প্রায় পুরোটাই বাংলাদেশ সবচেয়ে বাজে সময় পার করেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে। বছর শেষে এসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে ভালো কিছু করতে চান স্বাগতিকরা। এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা টেস্টে একটা ম্যাচও হারিনি। বাজেও খেলিনি। এটা অবশ্যই ওয়ানডেতে সাহায্য করবে। আর ২০১৪ সালটা আসলে ভালো যায়নি আমাদের। আমরা খুব খারাপ খেলেছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটা অবশ্যই একটা ভালো সুযোগ এখানে ক্যামব্যাক করা, বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে, বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সবাই এ সিরিজ নিয়ে সিরিয়াস।’

টেস্ট অধিনায়ক ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দল জিতেছে ৩-০ তে। ওয়ানডে অধিনায়কত্ব কতটা চ্যালেঞ্জের এবং ৫-০ জয় করার সম্ভব হবে কি না এমন প্রশ্নে মাশরাফি বলেন, ‘অধিনায়কত্ব করা অবশ্যই একটা চ্যালেঞ্জ। আগেও বলেছি, যেহেতু টেস্ট সিরিজ ভালো হয়েছে। সেটা ওয়ানডে সিরিজে হয়তো সাহায্য করবে। তবে এর মানে এই না যে, আমরা পাঁচটি ম্যাচই টানা জিতে যাব। যে ভাবে আমরা টেস্ট সিরিজে ভালো খেলেছি এখানেও ভালো খেলতে হবে। ৩-০ অনেকেই প্রত্যাশা করেছিল কিন্তু না হওয়া পর্যন্ত কেউই কিছু বলতে পারেনি। ভালো খেলেছে বলেই কিন্তু ৩-০ হয়েছে। সত্যি বলতে আমি এখনিই ৫-০’র চিন্তা করছি না। এখানে প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুইটা ম্যাচ আছে। আমরা যদি এখানে ভালো করে যেতে পারি তাহলে ঢাকায়ও ভালো করতে পারবো।’

ওয়ানডে পরিকল্পনা নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘এখানে ওয়ানডেতে পরিকল্পনায় অনেক পরিবর্তন আসবে। কারণ টেস্টের মত চাপে ফেলতে পারবে না কেউ। তো পরিকল্পনা পরিবর্তন করে সেটা ঠিকমত বাস্তবায়ন করাটাই জরুরী। সব কিছু যদি সঠিকভাবে করতে পারি তাহলে অবশ্যই ভালো সুযোগ থাকবে।’

২০১৫ বিশ্বকাপ নিয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক বলেন, ‘অবশ্যই কিছু মূল খেলোয়াড় দলের বাইরে আছে। যারা বাইরে আছেন তারাও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্যে। আপনি তো প্রথম থেকেই ১৫ জন মনে রেখে এগুতে পারবেন না। ১৮-২০ জন খেলোয়াড় থাকে যাদেরকে দিয়ে দল গঠন করতে হবে। যারা বাইরে আছে তারাও কিন্তু খেলার মধ্যে আছে। হয়তো কারো ছোট-খাটো ইনজুরি আছে। সেগুলো ঠিক হয়ে গেলে তারাও খেলবেন।’

দীর্ঘ দিন পর ওয়ানডে অধিনায়কত্ব করাও কঠিন হবে না বলে মনে করেন তিনি, ‘মনে হয় না আমার জন্যে এটা কঠিন হবে। আসলে আমরা এমন দল যে এখানও অনেক উন্নতি করেছি। কিন্তু ধারাবাহিক পারফর্ম করতে এখনো পারি না। আমাদের এখনও অনেক কিছু বাকি আছে, যা শিখতে হবে। সাকিব আছে, ‍মুশফিক-তামিম আছে যারা ব্যতিক্রমী পারফরমার। রিয়াদ ভালো খেলছে। সবার একই উদ্দেশ্য থাকে, যে দল হিসেবে একসঙ্গে পারফর্ম করবো। ভালো খেলে জিতব।’

বিশ্বকাপের আগে দুবাইয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ নিয়ে মাশরাফির বক্তব্য, ‘বিসিবি যেটা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই আমাদেরকে করতে হবে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে ম্যাচ খেললে অবশ্যই সেটা উন্নতিতে সাহায্য করবে। ম্যাচ খেলার বিকল্প কোন কিছুই নেই।’

ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘সিরিজ জিতে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার আগে আমাদের কালকের শুরুটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এই বছর ওয়ানডে যেহেতু আমাদের ভালো যায়নি, তাই অনেক কিছু চিন্তা করতে হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই বছর আমরা কিছু ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। ওইরকম যেন আর না হয়। এমন ম্যাচগুলো যেন জিতি। আর একটা-দুটা করে এগিয়ে যাওয়াই ভালো। একটা ম্যাচ জিতলে কিন্তু অটোমেটিক অনেক কিছু খুলে যাবে আমাদের সামনে। তখন মনে হবে, এই করতে হবে, ওই করতে হবে। ওদের সাথে জেতা সম্ভব। প্রথম ম্যাচটি যদি ভালো করে জিততে পারি তাহলে সব কিছু পরিস্কার হয়ে হয়ে যাবে। এখনই আসলে ৫-০’র কথা বলবো না। ম্যাচ বাই ম্যাচ, তারপর অবশ্যই সিরিজ।’