সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান জাতিসংঘের দু’বিশেষজ্ঞের » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

41944_UN-LOGO_copyবার্তাবাংলা ডেস্ক ::যুদ্ধাপরাধের সুষ্ঠু বিচারের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্বাধীন দু’বিশেষজ্ঞ। সমপ্রতি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশের প্রতি ওই আহ্বান জানিয়েছেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, খেয়ালখুশিমতো হত্যাকাণ্ড বিষয়ক ইউএন স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ক্রিস্টফ হেইনস এবং বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর গাব্রিয়েলা কাউল। তারা জাতিসংঘের কোন কর্মকর্তা নন। এমনকি তাদেরকে জাতিসংঘ বেতনও দেয় না। তবে তাদেরকে সম্মান দেখানোর জন্য ওই পদ দেয়া হয়। জাতিসংঘের অধীনে ইউএন নিউজ সেন্টারের ওয়েবপেইজে৭ই ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সমপ্রতি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। ওই বিচার করা হয়েছে তার অনুপস্থিতিতে। ফলে এক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে তা প্রতিফলিত হয় না। এরপর ৫ই ফেব্রুয়ারি আদালত আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া একই রকম বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এতে বিবাদীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতে পারে। ক্রিস্টোফ হেইনস বলেন, এই বিচারের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং এতে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার যে সম্ভাব্যতা  রয়েছে তার প্রেক্ষিতে এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, সব বিবাদী যেন আদালতে সুষ্ঠু বিচার পান। এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে যেসব মানুষ নৃশংসতা চালিয়েছিল তাদের বিচার ও শাস্তি দেয়ার জন্য সরকার ২০১০ সালের মার্চে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠন করা হয়। ওই বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতীতে ঘটে গেছে এমন গুরুতর অপরাধ চিহ্নিত করে তার বিচার করার জন্য এই আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম। এতে ওই আদালতের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে যে বিষয়টি তা হলো- সুষ্ঠু বিচারের মৌলিক বিষয় ও যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সমপ্রতি আবুল কালাম আযাদের অনুপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় সুষ্ঠু বিচার ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্রিস্টোফ হেইনস। তিনি বলেছেন, অধিক সুষ্ঠু বিচার ও বিচারের যথাযথ প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তা করতে হবে, বিশেষ করে যখন সেটা মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, যখন কোন মামলায় সব দিক থেকে নিশ্চিত করা যায় যে, সুষ্ঠু বিচার ও বিচার যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে করা হয়েছে তখনই মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি দেয়া যেতে পারে। ইন্টারন্যাশনাল কোভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস-এ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। সেই আইনে এমনটাই মেনে চলতে বলা হয়েছে। গাব্রিয়েলা কাউল সমপ্রতি বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও আদালতের প্রসিকিউশনের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাহী বিভাগ থেকে তাদের স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিবাদীপক্ষের সাক্ষী ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন তারা বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। হয়রান করা হয়। তিনি আরও বলেন, যথাযত প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম বিবাদীরা তাদের কাউন্সিলের সঙ্গে মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার পাবেন। তাদের সাফাই বক্তব্য দেয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দিতে হবে। তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য তারা সাক্ষীকে আদালতে আহ্বান করার ক্ষমতা রাখেন। বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে এর সব মৌলনীতির প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোন আপিল হলে তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করারও আহ্বান জানান ওই দু’বিশেষজ্ঞ। তারা বলেন, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি যথার্থ আপিল প্রক্রিয়াও খুব গরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »