উত্তাল রাবি, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলাম নিহতের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রনব কুমার পাণ্ডে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

প্রনব কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা একজন শিক্ষককে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা শিক্ষক হিসেবে কোনো ভাবেই এটা মেনে নিতে পারছি না।’

তিনি জানান, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আপাতত রোববার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। তবে ওইদিন পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে বলেও জানান প্রনব পাণ্ডে।

এর আগে, অধ্যাপক ড. এ কে এম শফিউল ইসলামের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এক ঘণ্টা ধরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

এদিকে, শিক্ষক নিহতের ঘটনায় নগরীতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, স্যার ছিলেন বাউলভক্ত মানুষ। সারাক্ষণ গান-বাজনা নিয়েই পড়ে থাকতেন। তিনি এর আগে যৌনকর্মীদের নিয়েও একাধিক কাজ করেছেন।

প্রসঙ্গত, মতিহার থানার বিহাস পল্লীর কাছেই দুর্বৃত্তের হামলায় নিহত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলাম।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে শফিউল ইসলাম বিহাসের সামনে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা অধ্যাপক শফিউল ইসলামের মাথা ও ঘাড়ে এলোপাথাড়ী কুপিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ মহানগরীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে রাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম তাহের নিজ বাসায় খুন হন।

কারা, কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বাংলামেইলকে জানিয়েছেন।

তবে হামলাকারীরা পেশাদার ছিল বলে ধারণা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি কামরুল হাসান মজুমদার। তার এ মতামতের উপরে ভিত্তি করে ওসি আলমগীর হোসেন জানান, আঘাতের চিহ্ন দেখে হামলাকারীদের পেশাদারী বলেই মনে হচ্ছে।

এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে রাতে শিক্ষক শফিউল ইসলামের মরদেহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেয়া হয়েছে। সেখানেই প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযায় রাবি উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। রাতেই রাজশাহী থেকে মরদেহ বগুড়ার সোনাতলায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নিহত শিক্ষক শফিউল ইসলামের ছেলে ঢাবি গণযোগাযোগ বিভাগের ছাত্র ডেভিন।