চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তুলতে কাজ করছি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: চট্টগ্রামকে আত্মার আত্মীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘গত নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের দায়িত্ব আমি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলাম। আজকেও (বুধবার) অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ ফ্লাইওভার প্রকল্পটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছি আমি। ঢাকায় থাকলেও চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। সেজন্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ৪ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। চট্টগ্রামকে আমরা শুধু নামেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে দেখতে চাই না। আক্ষরিক অর্থেই বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।’

বুধবার দুপুরে নগরীর সিডিএর নির্মাণাধীন মুরাদপুর থেকে লালখানবাজর পর্যন্ত নগরীর দীর্ঘতম ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

নয় মিনিটের সংক্ষিপ্ত এক বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চাই না, আমরা চাই উন্নয়ন, শান্তি ও গণতন্ত্র। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশে পরিণত হবে।’

এই সংক্ষিপ্ত সময়ের বক্তব্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ফিরিস্তি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য কথা দিয়েছিলাম। নির্মাণকাজ চলাকালে চট্টগ্রামবাসীকে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।’

সিডিএর নির্মাণাধীন এই ফ্লাইওভার প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ভূমিপ্রতি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমীন এমপি, পটিয়ার আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ শামসুল হক চৌধুরী, চন্দনাইশের সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাতকানিয়ার সাংসদ ড. আবু রেজা নদভী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীহের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালামসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সিডিএ সূত্র জানায়, নগরীর যানজট নিরসন ও এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে ২০১২ সালের ২ জানুয়ারি নগরীর মুরাদপুর, দুই নাম্বার গেইট হয়ে জিইসি পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পরামর্শক উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক্রমে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে লালখানবাজর পর্যন্ত নেয়া হয়।

ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ বাড়ানোর ফলে ১৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬২ কোটি টাকা। ফ্লাইওভারটি মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট, জিইসি, ওয়াসা হয়ে লালখান বাজারে গিয়ে শেষ হবে।

৪৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার দুইশত মিটার দৈর্ঘ্যের ফ্লাইওভারটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স র‌্যাঙ্কিন জেভি।

অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরের ১২ নভেম্বর শুরু হয়ে এই ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

এটি উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।