পদত্যাগপত্র জমা দিলেন বেরোবির শিক্ষকরা

বার্তাবাংলা ডেস্ক ::  বকেয়া বেতন নিয়ে জটিলতার কারণে রোববার দুপুর ১২ টায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বেরোবির শিক্ষকরা। এতে ২৭ টি পদে মোট ২২ জন শিক্ষকের পদত্যাগের কথা জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলতি মোট ৪৩ টি পদ রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯ টি পদে মোট ১০ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

বেরোবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নের্তৃত্বে যে সকল পদ থেকে শিক্ষক বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তারা হলেন; কলা অনুষদের ডিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বাংলা বিভাগের প্রধান, ইংরেজি বিভাগের প্রধান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান, লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান, গণিত বিভাগের প্রধান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, রসায়ণ বিভাগের প্রধান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান, মার্কেটিং বিভাগের প্রধান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সহকারী তিনজন সহকারী প্রভোস্ট, শহীদ মুখতার এলাহী হলের প্রভোস্ট।

বাকি কয়েকটি পদে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা ছুটিতে থাকায় পদত্যাগ পত্র জমা দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তারা উপস্থিত হয়ে সেগুলো জমা দেবেন।

গোপন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত যারা পদত্যাগ পত্র জমা দেননি। তাদের অনেকেই পদত্যাগ পত্র জমা দেবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোর্শেদ উল আলম রনি জানান, যারা পদত্যাগ করেছেন তাদের খালি পদে এখন পর্যন্ত কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে না। তবে মিটিং বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে ২৭ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

কিন্তু তারা এর অনেক আগে যোগ্যতা অর্জন করলেও পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধাদি সিন্ডিকেট সভার দিন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তাছাড়া অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য শিক্ষকরা আবেদন করে রাখলেও তা নিয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এ বিষয়ে উপাচার্যের বারাবর ধরণা দিলেও অর্জিত সময় থেকে পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সুবিধাদি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বিষয়টি নিরসনে গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষক সমিতি সাধারণ সভা করার মাধ্যমে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিলেও তিনি সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষক সমিতি ০৫ নভেম্বর পর্যন্ত উপাচার্যকে বয়কট করেছিল।

উপাচার্য শিক্ষকদের দাবি মেনে না নেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতি জরুরি সাধারণ সভার মাধ্যমে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে একাডেমিক প্রশাসনিক পদগুলো থেকে পদত্যাগ করলে ও ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে যাবেন বলে জানান শিক্ষকরা।