বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

Screenshot_38বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  মানুষ স্বভাবগত ভাবেই অনুসন্ধানী। এই অনুসন্ধানের খোড়াকের জন্য মানুষ সভ্যতার পর সভ্যতা বিনির্মান করেছে। এখনও মানুষ প্রতিনিয়ত অনুসন্ধান করে চলেছে তার প্রত্যাহিক চারপাশ। আর অতীতকে নতুন দিনের আলোয় পরিস্কার করে দেখার চেষ্টাতো মানুষের বহুদিনের। নিজের উৎস সন্ধানে মানুষ তাই সদাই ছুটে চলে নিজের শেকড়ের দিকে। তেমনি একদল শেকড় সন্ধানী মানুষ সম্প্রতি আবিস্কার করেছেন পৃথিবীর সর্বপ্রথম পোট্রেট বা মুখোশ।

আলোচনার সেই শেকড় সন্ধানীরা ইসরায়েল থেকে প্রায় ৯ হাজার বছর পুরনো বেশকিছু মুখোশ আবিস্কার করেছেন। এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে, পৃথিবীতে মানব সভ্যতার ইতিহাসে এগুলোই সর্বাধিক প্রাচীন মানবসৃষ্ট মুখোশ। কিন্তু কেন সেই নিওলিথিক যুগে মানুষের মুখোশের প্রয়োজন হয়েছিল তা সঠিক করে হয়তো বলা যাবে না। তবে ঘটনা এবং সেই সময়ের পরিবেশ পরিস্থিতি ইত্যাদি বিশ্লেষণ করলে এই প্রশ্নের উত্তরের কিছু ছেড়া সুতো পাওয়া যায়। প্রথমত, প্রকৃতিতে থাকা জন্তু-পশুদের ভয় দেখানোর জন্য মানুষকে মুখোশের আশ্রয় নিতে হয়েছিল; দ্বিতীয়ত, সেই সমাজে পুরোহিতরা সমাজে অধিপত্য বা ডাকিনীবিদ্যার বিপরীতে ক্ষমতার আধার হিসেবে মুখোশ সৃষ্টি করেছিল।

ইসরায়েলের জুদেন পাহাড় থেকে পাওয়া মুখোশগুলোর সবগুলোরই চোখ বড় বড়। পাথর দ্বারা নির্মিত এই মুখোশগুলোর এক একটার ওজন প্রায় দুই কেজি। তার উপর মুখোশগুলোর শরীরে বিভিন্ন রংয়ের প্রলেপ দেয়া আছে। যদিও দীর্ঘ সময়ের কারণে এই মুখোশগুলোতে এখন আর রং নেই, তবে রংয়ের উপস্থিতি বোঝা যায়।

তবে মজার বিষয় হলো, এই মুখোশগুলো যারা তৈরি করেছিল তারাই হয়তো সর্বপ্রথম মানব যারা সদ্য যাযাবর জীবন ত্যাগ করে গোষ্ঠিবদ্ধ জীবন শুরু করেছিল। কিন্তু তারপরেও এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না এই মুখোশগুলোর উত্তরসুরীদের ব্যাপারে।

এবিষয়ে ইসরায়েল জাদুঘরের পরিচালক জেমস শিণ্ডার বলেন, ‘প্রাচীন এই মুখোশগুলো থেকে ইতিহাস টেনে বের করা অতটা সহজসাধ্য নয়। সবগুলো মুখোশ যে একই স্থানের এবং এই ইসরায়েলেরই তা নিশ্চিত। আরো গবেষণার দরকার আছে এই মুখোশগুলো সম্পর্কে জানার জন্য। হয়তো এমনও কিছু বিষয় আমাদের সামনে এই মুখোশগুলো তুলে আনতে পারে, যা নিয়ে আমাদের ভাবনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।’

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »