ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে জনগণের ওপর নিপীড়ন

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: সরকার নিজের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে জনগণের ওপর অব্যাহত নিপীড়ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নিদ্রাহীন প্রহরে পীড়ন পেষণের সব অস্ত্র জনগণের ওপর প্রয়োগ করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, এদেশের নাগরিক স্বাধীনতা এখন শেখ হাসিনার করুণার ওপর নির্ভর করছে। ভোটার অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় ভয় জনগণকে। তাই জনগণের মনে ভীতি সৃষ্টির জন্য সরকারের এমন কোনো দমনমূলক নীতি নেই, যা তারা অবলম্বন করছে না।

তিনি বলেন, সরকার নিজের অনুগত ব্যক্তিদের বসিয়ে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে। এর মাধ্যমে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই ডাকাতি করে গদি দখল করে আছে।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্নিগরল মেশানো বক্তৃতায় তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা কটূক্তি, পেশী প্রদর্শন, অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারে শুধু ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং এদের নির্যাতনে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষই দিবারাত্রি আতঙ্কে রয়েছে। তাদের রুচিহীন, দায়িত্ব জ্ঞানবর্জিত উস্কানি ও অসভ্যতার ওপর রাজনীতির সংস্কৃতি দাড় করিয়েছে তারা।

বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একগুয়েমি ও নিষ্ঠুরতার কারণে দেশের রাজনৈতিক ময়দান শান্ত ও নিরাপদ হয়ে উঠবে না। জনগণের প্রবল আন্দোলনের বাঁধভাঙা জোয়ারেই অবৈধ সরকারের পতন ঘটানো হবে।

রিজভী জানান, ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এবং সারা দেশে সকল দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন সকাল ১০টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুস্পস্তবক অর্পন ও ফাতেহা পাঠ।

তিনি জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যেই সারা দেশে পোস্টারিং করা হয়েছে। আগামীকাল ৭ নভেম্বর জাতীয় পত্রিকাগুলোয় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে।

৮ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওইদিন সমাবেশের অনুমোদনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে সরকার এখনো অনুমোদন দেয়নি বলে জানান রিজভী আহমেদ।

তিনি জানান, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে সারা দেশে স্থানীয় সুবিধা অনুযায়ী আলোচন সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি পালিত হবে।

এ ছাড়া আগামী ১৭ নভেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে বিএনপি। এ উপলক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে আহবায়ক ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুকে সদস্য সচিব করে একটি আহবায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।