দোষ স্বীকার, নাফিসের ৩০ বছর দণ্ড হতে পারে » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

41829_nবার্তাবাংলা ডেস্ক ::নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেওয়ার সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় অভিযুক্ত বাংলাদেশি কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস (২১) দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী ৩০ মে রায় ঘোষণা করা হবে, এতে তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে অবস্থিত ইস্টার্ন ফেডারেল কোর্টের প্রধান বিচারক ক্যারল এ্যমনের কোর্টে নাফিস দোষ স্বীকার করেন।

বিচারক ক্যারল অ্যামনের সামনে একটা কাগজে লেখা নিজের বিবৃতি পড়েন নাফিস। এসময় কোর্ট ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। পিনপতন নীরবতার মধ্যে নাফিস বলেন, “সন্ত্রাসী জেহাদি কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল আমার।”

ইংরেজিতে লেখা বিবৃতিতে নাফিস বলেন, “সহিংস জেহাদকে আমি আর সমর্থন করছি না। আমার কর্মকাণ্ডের জন্য আমি সচেতনভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।”

জানা গেছে, ব্রুকলিনের ফেডারেল প্রসিকিউটরের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে দোষ স্বীকার করেন নাফিস। আগামী ৩০ মে নাফিসের শাস্তি ঘোষণা করা হবে। দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় এ অপরাধে তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড হবে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

নাফিসের বর্তমান বয়স ২১ বছর। এ হিসেবে ৫১ বছর বয়সে কারামুক্ত হবেন তিনি।

এফবিআইয়ের ফাঁদে পড়ে সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ও গ্রেফতারে ব্যাপক সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর লরেট ই লিঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেই নাফিস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল। এফবিআইয়ের স্টিং অপারেশন এ ধরনের সন্ত্রাস বন্ধ করার সর্বোত্তম কৌশল।”

তিনি বলেন, “নাফিস বোমা বানানোর কৌশল নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল। এজন্য উদ্দেশ্য সাধনের কোনো সুযোগকেই হাতছাড়া করতে চায়নি সে।”

কোর্টে ছাই রঙের বিশেষ পোশাক পরে এসেছিলেন নাফিস। তার পাশে বসে শুনানিতে অংশ নেন সরকার মনোনীত ডিফেন্স অ্যাটর্নি হেইডি সিজার।

শুনানি শেষে নাফিসের আইনজীবীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাফিসকে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম,ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনসুলার বিভাগের প্রধান শামসুল হক ও দূতাবাস কর্মকর্তা শাহানারা মনিকা শুনানী শেষে নাফিসের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

তখন নাফিস জানিয়েছিলো, কারাবাসে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তার। চাইলে টেলিভিশন দেখা বা ফোনে কথা বলারও সুবিধা আছে। এজন্য বাবা মা’র সঙ্গে কথা বলতে পারছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফবিআই গত বছরের ১৭ অক্টোবর নাফিসকে গ্রেফতার করে। ১৬ নভেম্বর গ্র্যান্ড জুরি নাফিসকে অভিযুক্ত করে।

২০১২ সালের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের পর দক্ষিণ-পূর্ব মিসৌরির একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন নাফিস। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক ওই কোর্স শেষ না করেই জুনের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কের একটা টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন তিনি।

এফবিআই নাফিসকে গ্রেফতারের পর ঢাকায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সে ষড়যন্ত্রের শিকার।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »