বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Photo-3-08.02.1320130207230729বার্তাবাংলা ডেস্ক ::মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার মেঘনা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে এক শিশু ও দুই নারীর লাশ উদ্ধার করেছেন ডুবরীরা। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

তবে,  এ ৩ জনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ফিরোজা ফারজানা নামে একটি বালুবাহী বলগেট পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে এমভি সারশ নামে লঞ্চটি ডুবে যায়।

দুপুর ২টার দিকে লঞ্চের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরপর এক শিশুসহ ২ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ সময় লঞ্চটিতে অর্ধ শতাধিক যাত্রী ছিলেন।

এদিকে, দুঘর্টনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মেঘনা নদীর মাঝখানে নোঙর করেছে রুস্তম। সেখানে ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া লঞ্চটি সনাক্ত করার কাজ শুরু করেছে।

বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে সনাক্ত করা যায়নি। ডুবে যাওয়া কোনো যাত্রীরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফিরোজা ফারজানা নামে বলগেটটি আটক করেছে স্থানীয় জনতা।

এ সময় ডুবে যাওয়া লঞ্চে ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়া যাত্রী তারেক হোসেন।

তিনি কান্না জড়িত কণ্টে যাত্রী তারেক হোসেন আরও জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই লঞ্চটি ডুবে যায়। এতে বেশির ভাগ যাত্রীই ডুবে যাওয়া লঞ্চের সঙ্গে নদীতে তলিয়ে গেছে।

লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে স্বজন বাদল ছুটে এসেছেন মেঘনা নদীর তীরে।

তিনি জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চে তার চায়না(২৫), শাহানা (২৬), ময়না (২০), বোন জামাই মুক্তার হোসেন ও ২ ভাগ্নে-ভাগ্নি নারায়নগঞ্জ থেকে কালিপুরা যাচ্ছিলেন।

তার পরিবারের ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সাইফুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তি লঞ্চ ডুবির খবর পেয়ে ঢাকার রায়েরবাগ থেকে ছুটে এসেছেন গজারিয়ার মেঘনা নদীর তীরে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চে তার স্ত্রী হাজেরা বেগম বেবি (৪২) ও তার ছেলে ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্র ফয়সাল ইসলাম নারায়নগঞ্জ থেকে লঞ্চযোগে মতলব যাচ্ছিলেন।

তিনি জানান,লঞ্চ ডুবির ঘটনার তার ছেলে ফয়সাল তীরে উঠতে পারলেও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম বেবি নিখোঁজ রয়েছে।

উদ্ধার হওয়া অপর যাত্রীরা হলেন- কোরবান আলী (৪৫), বিল্লাল হোসেন (৩০), আশরাফ হোসেন মুন্সী (৩৫), নাদিয়া (১৩)।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আয়াতুন ইসলাম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) কামরুন নাহান, মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আফসারউদ্দিন ভূঁইয়া, গজারিয়া উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আহসানউল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা করছেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »