বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

cumkiবার্তাবাংলা ডেস্ক ::  বিয়ের জন্য কন্যাশিশুর বয়স বাড়ালেই বাবা-মা, পরিবারের অন্য সদস্য এবং বিয়ের রেজিস্ট্রারকে শাস্তি পেতে হবে। এমন ব্যবস্থা রেখে তৈরি হচ্ছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আইন -২০১৪।

শিশুদের রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নতুন একটি আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
তিনি জানান, বাল্যবিবাহ রোধে ১৯২৯ সালের আইন পরিবর্তন করে ২০১৪ আইনের খসড়া করা হয়েছে। এফিডেভিট বা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিয়ের জন্য আর বয়স বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবেনা।

সোমবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাংলাদেশ গার্ল সামিট-২০১৪ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি লিন ফেরদাস্টোন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ।

চুমকি বলেন, খসড়ায় এফিডেভিট করে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিটও গ্রহণযোগ্য হবে না। এই আইনে মা-বাবাসহ রেজিস্ট্রারের শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই আইন তৈরি করা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে আমরা বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থাও গ্রহণ করব। আমরা সমতার সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাব।’

চুমকি বলেন, অপরিণত বয়সের মেয়ে শিশুদের মা-বাবার কথা শুনতে হবে। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কারও হাত ধরে বাড়ি ছাড়তে পারবে না। সেক্ষেত্রে মা-বাবাসহ সবাইকে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতন হতে হবে।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বৈষম্য বাজেট করা হয়েছে। ৭টি বিভাগের ৭টি জেলার ৭টি উপজেলায় বাল্যবিবাহ রোধে ক্লাব নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ নারীশিশু যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে- তারাই ঘরে স্বামীর হাতে নির্যাতিত হয়ে নিহত হচ্ছে। এই অবস্থা নিরসনে সহায়তা করবে নতুন আইন।

ফজলে হাসান আবেদ বলেন, ‘বাল্যবিয়ের ফলে বাংলাদেশে অধিকাংশ মেয়ে মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে। যদিও স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা বোঝা নয় সম্পদ। আমাদের পরিবারগুলোতে মেয়েদের অবজ্ঞা করার প্রবণতা রয়েছে। আমাদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেননা মেয়েরাও আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম।

অনুষ্ঠান শেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কন্যা শিশুরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »