বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

Screenshot_25বার্তাবাংলা ডেস্ক ::  আজ থেকে ২০ বছর আগের কথা। ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ কোন টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড পেয়েছিল পাকিস্তান। দুই দশক পর মরুশহর দুবাইতে মিসবাহ-উল হকের হাত ধরে নতুন ইতিহাস রচনা করলো পাকিস্তানিরা। ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২২১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকল পাকিস্তান।

‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটা এমনিতেই পাকিস্তানের গায়ে যেন আঠা দিয়ে সেঁটে দেওয়া আছে। দুবাইতে সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ তারা আরেকবার দিল। শক্তিশালি অস্ট্রেলিয়াকে ২২১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে।

রীতিমত অবিশ্বাস্যই বটে। যে দলটি টি২০ এবং ওয়ানডেতে এত বাজে পারফরমেন্স করেছিল যে, শহিদ আফ্রিদির মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, এই দল নিয়ে বিশ্বকাপে কিভাবে খেলতে যাবো? সেই দলটিই কি না সাদা জার্সিতে একেবারে ভিন্ন চেহারায়!

শুধু জয় হলেও এক কথা ছিল, টেস্টের পুরো পাঁচদিনের কোন সময়ই মনে হয়নি পাকিস্তান ব্যাকফুটে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ধারাভাষ্যকারের সঙ্গে অসি অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘আমরা আসলে সব দিক থেকেই তাদের কাছে হেরেছি। ব্যাটসম্যানরা ব্যার্থ হয়েছে পাকিস্তানের স্পিনকে সামলাতে। বোলাররা ব্যার্থ হয়েছে পাকিস্তানের রান থামাতে। এমনকি ফিল্ডাররাও পিছিয়ে ছিল পাকিস্তানের ফিল্ডিংয়ের চেয়ে।’

এমন পাকিস্তান তো সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি। সেই ২০১০ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটিতে সালমান বাটের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান। সেবার বাটের হাতে ছিলেন, তুরুপের তাস মোহাম্মদ আমের, মোহাম্মদ আসিফের মত পেসার। ব্যাটসম্যানরাও ওই টেস্টে জ্বলে উঠেছিলেন বলে জয় সম্ভব হয়েছে।

তবে, দুবাই টেস্টের সঙ্গে ওই ম্যাচের সবচেয়ে বড় অমিল হলো, ধারাবাহিকতাহীন একটি দলের সবাইকে হঠাৎ একসঙ্গে জ্বলে ওঠা। অভিমান ভেঙে ইউনিস খান দলে ফিরেই রেকর্ড গড়ে বসলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ইনজামাম-উল হককে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। গড়লেন ২৬টি টেস্ট সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড।

সাঈদ আজমলের মত স্বনামধন্য, বিশ্বসেরা স্পিনারের অনুপস্থিতি, মোহাম্মদ হাফিজের মত পরীক্ষিত অলরাউন্ডারের অফ ফর্ম, সেরা কোন পেসার নেই। ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন মিসবাহ-উল হক।

অথচ সেই দলটিই কি না, সবার চোখ কপালে তুলে দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল বিশাল এক ব্যবধানে। শুধু তাই নয়, অসিদের বিপক্ষে ২০ বছর ধরে টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার আক্ষেপটাও এবার ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ পাকিস্তানের সামনে। সেই ১৯৯৪ সালে নিজেদের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল সেলিম মালিকের পাকিস্তান।

দুই নতুন স্পিনার জুলফিকার বাবর আর ইয়াসির শাহের হাতেই মূলত নাকাল হতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। প্রথম ইনিংসে এ দু’জন মিলে ৫ উইকেট শিকার করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন বেশি বিধ্বংসী। দু’জনই ফিরিয়েছেন অসিদের ৯জন ব্যাটসম্যানকে।

ইউনিস খানের প্রশংসা তো না করলেই নয়। অভিমান থেকে প্রত্যাবর্তন এত মধুর হয়! অন্যকোন ক্রিকেটার সম্ভবত তার স্বাদ এখনও পায়নি। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি! ৪০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন কোন নজির দেখাল কোন ব্যাটসম্যান।

প্রথম ইনিংসে ৭ রানের মধ্যে শেহজাদ আর মোহাম্মদ হাফিজ ফিরে গেলে ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্যই পাকিস্তানের ললাটে লিখে দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু ইউনিস খান এসে দৃঢ়তার পরিচয়ই নয়, পাকিস্তানকে গড়ে দিলেন অসাধারণ এক জয়ের ভিত এবং আত্মবিশ্বাস। শেষ পর্যন্ত এরই সঠিক অনুবাদ করে যেতে পেরেছে পাকিস্তান।

ম্যাচের শেষে জয়ের মন্ত্র কি ছিল সেটা শোনালেন অধিনায়ক মিসবাহও। তিনি বলেন, ‘সত্যিই জয়টা আমাদের প্রয়োজন ছিল। শেষ দুই সিরিজে আমাদের বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই জয় আমাদের তরুনদের মধ্যে অসাধারণ এক আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে। ওয়ানডে সিরিজের পরই আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ব্যাটিংয়ের সমস্যার কারণেই এত বাজেভাবে হারতে হয়েছে। টেস্ট সিরিজে যদি ব্যাটিংয়ে উন্নতি করা যায় তাহলে ভালো কিছু করা সম্ভাব।’

মিসবাহর ‘ভালো কিছু’ সেটা সবাই দেখল। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ২০ বছরের খরা কাটিয়ে পাকিস্তানের চোখ এখন সিরিজ জয়ে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »