বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Screenshot_16বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::   ভারতে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় এক বাবাকে দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। নিজের দুই মেয়েকে ধর্ষণ করার অপরাধে অভিযুক্ত রাম সিংকে এই শাস্তি দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক প্রতিভা রানী বলেন, তিনি অভিযুক্তের প্রতি কোনা রকম দয়া দেখাননি। তিনি আরো বলেছেন, নিজের মেয়েদের ধর্ষণ করে জঘণ্যতম অপরাধ করেছেন অভিযুক্ত রাম সিং।

আদালতের রায়ে নির্যাতিতা বোনদের সাহসের প্রশংসা করে বলা হয়, তারা নিজেদের বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ায় এই মামলার রায় দেয়া সম্ভব হয়েছে। তবে বাবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথমে সোচ্চার না হওয়ায় বড় বোনের সমালোচনা করেছেন আদালত। যদিও তিন বোনের নিরাপত্তার কথা ভেবেই বাবার নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করেছিল বড় মেয়েটি।

স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তার চার মেয়েকে নিয়ে একাই থাকতেন রাম সিং। বড় মেয়ের বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর তখন প্রথমবারের মত তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। এরপর থেকে নিয়মিতই তাকে ধর্ষণ করতে থাকেন। কিন্তু তখন বাবার বিরুদ্ধে কোনো রকম প্রতিবাদ করেনি মেয়েটি। সামাজিক নিরাপত্তা এবং অন্য বোনদের কথা চিন্তা করে সে মুখ বুঝে এই নিপীড়ণ সহ্য করেতে থাকে। কিন্তু ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাম সিং যখন তার ১১ বছর বয়সী সবচেয়ে ছোট মেয়েটির দিকে হাত বাড়ান, তখন বড় মেয়েটির ধৈর্যে্যর বাঁধ ভেঙে যায়। সে প্রতিবাদ করতে শুরু করে। ছোট বোনটিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সে পুলিশের কাছে যায় এবং বাবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

আদালতে আট পাতার রায়ে আরো বলা হয়, অভিযুক্ত রাম সিং দুবার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু তার দুই স্ত্রীই তাকে ছেড়ে চলে যায়। ‘তখন যৌন লিপ্সা মেটাতে তিনি তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ের দিকে হাত বাড়ান। পরে মাত্র ১১ বছরের মেয়ের দিকে চোখ পড়ে।’ নিজের বাবার লালসা থেকে ছোট বোনটিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর আইনের আশ্রয় নেয় বড় বোনটি।

মেয়েদের মা চলে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে নেপাল চলে যান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »