শরীয়তপুরে আ.লীগের দু পক্ষের সংঘর্ষ

শবার্তাবাংলা রিপোর্ট ::  রীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাশার ইউনিয়নের দক্ষিণ গোয়ালদি গ্রামে আওয়ামী লীগের দু পক্ষের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে এ সংঘর্ষ ঘটে।

আহতদের মধ্যে ১৮ জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ১০টি বসত ঘর ভাংচুর করা হয়।

শরীয়তপুর সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক আমিন উদ্দিন ফকির ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ ফকিরের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। আমিন উদ্দিন ফকিরের সমর্থক রাজ্জাক মোড়লের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে দক্ষিণ গোয়ালদি গ্রামের বাড়িতে সাজ সজ্জার কাজ চলছিল। বুধবার সকাল ৯টার দিকে জাহিদ ফকিরের সমর্থক কয়েকজন যুবক সেখানে বাধার সৃষ্টি করে। তখন তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সংবাদ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দু পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দু পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছে। ইট, লাঠির আঘাত ও দায়ের কোপে তারা আহত হয়। আহতদের ১৮ জনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের ১০টি বসত ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে।

দক্ষিণ গোয়ালদি গ্রামের রাজ্জাক মোড়ল বলেন, ‘আগামী শুক্রবার আমার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান। তা বন্ধ করার জন্য পরিকল্পিতভাবে জাহিদ ফকিরের সমর্থকরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। তারা কুপিয়ে আমার কয়েকজন স্বজনকে আহত করেছে।’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ ফকির বলেন, ‘আমিন উদ্দিন ফকির বিএনপির লোকজন নিয়ে আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তখন তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়। তারা আমার সমর্থকদের কয়েকটি বসত ঘর ভাংচুর করেছে।’
জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক আমিন উদ্দিন ফকির বলেন, ‘জাহিদের সন্ত্রাসী বাহিনি আমার এক সমর্থকের বাড়িতে হামলা করলে সংঘর্ষ হয়। তারা আমার ২০ জন সমর্থককে কুপিয়ে আহত করেছে।’

শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম মনির পিপিএম বলেন, ‘ওই গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত। এ বিষয়ে এখনও কোন মামলা হয়নি।’