বার্তাবাংলা ডেস্ক »

JAMBO-mohaskhlai20130206212907বার্তাবাংলা ডেস্ক ::বঙ্গোপসাগরের ত্রাস দস্যু সরদার আবুল মোকাররম ওরফে জাম্বু ডাকাত পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এনকাউন্টারে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশ-ডাকাত বন্দুকযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে জাম্বু ডাকাত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পথে রয়েছে।

বুধবার চকরিয়া থেকে আটক হওয়ার পর পুলিশ এই শীর্ষ ডাকাতকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে মহেশখালীতে অভিযান চালায়।

এ সময় জাম্বু বাহিনীর অন্যান্য ক্যাডাররা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশে উপর হামলা চালায়। এতে ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়।  হামলায় পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় জাম্বু ডাকাত।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল চকরিয়ার একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে এই ডাকাত সরদারকে আটক করতে সক্ষম হয়।

এর আগে মহেশখালীর জলদস্যুদের কার্যক্রম নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট প্রকাশিত হলে রিপোর্টের সূত্র ধরে এই শীর্ষ দস্যুকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান তিনি।

গ্রেফতারের পর জাম্বু তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র ভান্ডারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় পুলিশকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ৭ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে এই ডাকাতকে নিয়ে পুলিশ মহেশখালীতে অভিযান চালায়।

এ সময় পুলিশ তাকে নিয়ে ঘোরকঘাটা-ঘটিভাঙ্গা সড়কের নয়া পাড়া, চান্দা কাটা এলাকায় পৌছ‍ালে তার সন্ত্রাসী বাহিনী পুলিশের কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিতে হামলা করে । এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলিতে সন্ত্রাসী জাম্বু ডান পায়ের হাটুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।

তাছাড়া আহত হয় পুলিশের এসআই এনামুল হক (৩৫), কনস্টবল মাদল কান্তি বড়ুয়া (৩২), নছিম উদ্দিন (২৯)। আহত পুলিশ সদস্যদের মহেশখালী হাসপতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গুরুতর আহত জাম্বু ডাকাতকে প্রথমে মহেশখালী পরে অবস্থার অবনতি ঘটায় চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

অভিযানে স্থানীয় কাটাখালী ব্রীজের পশ্চিমে নাইরা ছোটার ঘোনা এলাকায় ঘটনাস্থল থেকে ২ টি এলজি, ৩ রাউণ্ড তাজা কার্তুজ, ৬ রাউন্ড বিষ্ফোরিত কাতুজের খোসা, একটি রাম দা, একটি কিরিচ ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

বন্দুকযুদ্ধ চলাকালে পুলিশ ১২ রাউণ্ড শর্টগানের গুলি ও ৩ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি ছোঁড়ে এবং ডাকাতরা ২৫/ ৩০ রাউণ্ড গুলি ছুঁড়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. নাছির উদ্দিন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই দস্যু সরদার সোনাদিয়া চরের জাম্বু ডাকাতকে নিয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশিত হলে দস্যু সরদারকে আটক করতে পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড বিভিন্ন স্থানে একাধিক বার অভিযান চালায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ এই শীর্ষ দস্যু সরদারকে আটক করতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »