বার্তাবাংলা ডেস্ক »

imagesবার্তাবাংলা ডেস্ক ::উইন্ডোজ৮-এর বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন টাচস্ক্রিন ডিভাইস দিয়ে বাজার চাঙ্গা করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বের শীর্ষ সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ইউনিটের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা টেমি রেলার জানান, গত ২৬ অক্টোবর বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ছয় কোটি ইউনিট বিক্রি হয়েছে উইন্ডোজ৮, যা অপারেটিং সিস্টেমটির (ওএস) ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তারই পূর্বাভাস। এই ওএসভিত্তিক মাইক্রোসফটের নিজস্ব টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ এবং কনভার্টিবল বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি। খবর রয়টার্সের।
রেলার জানান, তিন বছর আগে বাজারে ছাড়ার পর প্রথম দিকে উইন্ডোজ৭ ওএস তেমন বাজার পায়নি। কিন্তু ক্রমান্বয়ে এটি শীর্ষস্থান দখল করতে সক্ষম হয়। উইন্ডোজ৮ও একইভাবে সাফল্য পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল শুরু করেছি, আরো অনেকটা পথ সামনে পড়ে আছে। মাত্র কিছু সময় হয়েছে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ এবং কনভার্টিবলের দিকে নজর দিয়েছি আমরা, আশা করছি আগামী বিক্রয় মৌসুমগুলোতে সব ধরনের মূল্যসীমায় এ ধরনের পণ্য ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিতে পারব।’
এসারের নতুন ট্যাবলেট এবং এইচপির হালকা ল্যাপটপগুলোর দিকে নির্দেশ করে রেলার জানান, এ যন্ত্রগুলো অ্যাপলের আইপ্যাড আর গুগলের অ্যান্ড্রয়েডের দখলে থাকা মোবাইল কম্পিউটিং বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।
তিনি আরো জানান, উইন্ডোজ৮-এর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে এ যন্ত্রগুলো। বড়দিনের সময়ে এ ধরনের যন্ত্রের উপযোগী টাচস্ক্রিনের সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘ছুটির সময় কয়েকটি যন্ত্রের সরবরাহ সংকট ছিল। তার পরও আগ্রহোদ্দীপক এই ওএস-সংবলিত অনেক যন্ত্র বিক্রিতে সমর্থ হয়েছি আমরা।’
মাইক্রোসফট অবশ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সারফেস                    ট্যাবলেটের বিক্রির পরিমাণ জানায়নি। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির মতে, এ সংখ্যা হতে পারে ৯ লাখের মতো। এ সংখ্যা অবশ্য বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা এবং আইপ্যাডের ২ কোটি ৩০ লাখ ইউনিট বিক্রির তুলনায় তেমন কিছুই নয়।
এ সপ্তাহের শুরুতে সারফেসের নতুন দুটি সংস্করণ বাজারে ছেড়েছে মাইক্রোসফট। ইন্টেলের চিপনির্ভর এ যন্ত্রগুলো সব ধরনের উইন্ডোজ প্রোগ্রাম চালাতে সক্ষম। রেলারের মতে, ব্যবসায়ীরা এতে দারুণ আকৃষ্ট হবেন। তিনি বলেন, এক্সেল চালিয়ে দেখুন, মনে হবে সব ঝড়ের গতিতে হয়ে যাচ্ছে। রেলার নিজেই দুই সপ্তাহ ধরে সারফেস প্রো ট্যাবলেট ব্যবহার করছেন।
ফরেস্টার রিসার্চের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মাত্র দুই শতাংশ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী কাজের জন্য উইন্ডোজনির্ভর ট্যাবলেট ব্যবহার করেন। তবে এদের ৩২ শতাংশ পরবর্তী কাজের ট্যাবলেট হিসেবে সারফেস ব্যবহারে আগ্রহী। ধারণা করা হচ্ছে, এ অনুমান সঠিক হলে সারফেস এবং উইন্ডোজভিত্তিক অন্যান্য ট্যাবলেটের বিক্রি ২০ কোটি ইউনিটের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সারফেস প্রোর সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হচ্ছে এতে এমএস অফিসের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ রয়েছে, যার ওপর নির্ভর করে এ ট্যাবলেটকে পুরোপুরি কার্যকর ট্যাবলেট হিসেবে বর্ণনা করতে পারে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি অবশ্য এখন পর্যন্ত আইপ্যাডের জন্য অফিস প্রোগ্রাম বাজারে ছাড়েনি। বিশ্লেষকরা
ধারণা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই আইপ্যাডের উপযোগী অফিস বাজারে ছাড়তে পারবে মাইক্রোসফট।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »