জমে উঠছে রাজধানীর বিপনীবিতানগুলো

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: সাধারণত রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানীর ঈদে তেমন একটা জমতে দেখা যায় না রাজধানীর বিপনীবিতানগুলো। তবে অন্যান্য বছরগুলোর তুলনায় এবার পিঠাপিঠি দু’টি ধর্মীয় উৎসব ঈদ ও পূজা পড়ে যাওয়ায় রোজার ঈদের মতোই জমে উঠেছে রাজধানীর বিপনীবিতানগুলো।ঈদের বাকি আর মাত্র চার দিন। আর গতকাল থেকেই শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ঈদ আর পূজাকে কেন্দ্র করে বিকি-কিনির ধুম পড়েছে রাজধানীর অভিজাত শপিংমলগুলোতে। বেচাকেনার কমতি নেই ফুটপাতের দোকানগুলোতেও।মঙ্গলবার থেকেই রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমল, সায়েন্সল্যাবের বায়তুল মামুর মসজিদ মার্কেট, মিরপুরের লাটিমি শপিং সেন্টার, প্রিয়ঙ্গন শপিং সেন্টার, গ্লোব শপিং সেন্টার, ঢাকা কলেজের উল্টোপাশে ফুটপাথের দোকান, নিউমার্কেট, গুলিস্তানের ফুটপাথের দোকান, রাজধানী সুপার মার্কেট, হাজী সামাদ সুপার মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।ঈদ ও পূজা উপলক্ষ্যে বেশি ভিড় বাড়ছে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস সামগ্রীর দোকানগুলোতে। তবে অভিজাত শপিংমলগুলোর চেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এছাড়াও নিন্ম ও মধ্য আয়ের ক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে নিউমার্কেটে। মূলত সাধ এবং সাধ্যের মধ্যেই সবকিছু পাওয়া যায় বলেই একটু বেশিই ভিড় এখানে। এছাড়াও ভিড় রয়েছে গাউছিয়া আর চাঁদনী চক মার্কেটে।বিক্রেতারা জানালেন, এবার হিন্দু ও মুসলমানদের দু’টি উৎসব একত্রে হওয়ায় বাজার জমেছে। অন্যদিকে ক্রেতারা জানালেন, কিছুদিন পরেই কোরবানীর ঈদ। পশু কেনার ব্যস্ততা তাই আগেভাগেই সারতে চান কেনাকাটা সংক্রান্ত ঝামেলা।রাজধানীর বাড্ডা থেকে ঈদের পোশাক কিনতে বসুন্ধারা সিটিতে এসেছেন জাহিদুল ইসলাম। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি শীর্ষ নিউজকে বলেন, ‘কোরবানীর ঈদে পশু কেনাকাটার ঝামেলা আছে তাই আগেই পোশাক কিনতে আসলাম।’রাজধানীর বিপনীবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। তার সঙ্গে ছোট ছেলেমেয়েদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর অভিজাত শপিংমলগুলোতে প্রতিবারের মতো এবারো দেখা যায় শিশু ও মেয়েদের পোশাকে ভারতীয় ছাপ। বিশেষ করে ভারতীয় সিনেমা ও নাটকের নারী অভিনয় শিল্পীরা যে ধরনের পোশাক পড়েন ওই পোশাকের চাহিদা বেশি।নিউমার্কেটে কেনাকাটা করতে এসেছেন রত্না ঘোষ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঈদ ও পূজাকে কেন্দ্র করে পোশাকের দাম একটু বেশি। বিক্রেতাদের দাবি বাজার জমে উঠলেও রোজার ঈদের মতো তেমন একটা চাপ নেই। ঈদুল ফিতরের তুলনায় ঈদুল আযহাতে কাপড়ের চাহিদাটা একটু কম। যদিও পূজাকে কেন্দ্র করে কিছুটা চাহিদা রয়েছে।সায়েন্স ল্যাবের বায়তুল মামুর মসজিদ মার্কেটের দোকানি রফিউল আলম শীর্ষ নিউজকে বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসছে তাই ইদানিং খুব চাপ যাচ্ছে। এবারের ঈদে শাড়ির মধ্যে জামদানী এবং শিফন ও শিফন জর্জেটের উপর রেপ্লিকা শাড়ি বেশি চলছে। আর ছেলেদের পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবির সঙ্গে হাতকাটা কোট বেশ চলছে।আয়োজনের কমতি নেই ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। অভিজাত শপিংমলগুলোর চেয়ে দ্বিগুন ভিড় রয়েছে এই দোকানগুলোতে। মূলত নাগালের মধ্যে সবকিছু পাওয়া যায় বলেই বেশি ভিড়। শাড়ি, থ্রি পিস, শার্ট, প্যান্ট, লেহেঙ্গা, ছোটদের গেঞ্জি, জুতা, সেন্ডেল, কসমেটিকসসহ সব ধরনের আয়োজন রয়েছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে।