চট্টগ্রামে বিশ্বমানের হাসপাতাল হচ্ছে

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: জেলার রাঙ্গুনিয়ায় সংযুক্ত আরব-আমিরাতের প্রয়াত বাদশা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান পরিবারের মালিকানাধীন ভূমিতে বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার পোমরা ইউনিয়নে ১২০ একর জমির ওপর এ হাসপাতাল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের কুটনৈতিক তৎপরতায় বাদশা পরিবারের পরিচালনাধীন নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে এই হাসপাতাল নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার এই হাসপাতাল নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। ড. হাছান মাহমুদের একান্ত সহকারী এনায়েতুর রহিম রাইজিংবিডিকে জানান, রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় ১৯৮৫ সাল থেকে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ভূমিতে এ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড. হাছান মাহমুদ নাহিয়ান পরিবারের সঙ্গে ব্যাক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে এ হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে রাজি করাতে সম্মত হয়েছেন। এনায়েতুর রহিম জানান, ১৯৮৪ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোঃ এরশাদের আমন্ত্রনে তৎকালীন আরব-আমিরাতের বাদশা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান চট্টগ্রাম এবং কাপ্তাই সফর করেন। কাপ্তাই পার্বত্য এলাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে বাদশা চট্টগ্রাম বিমান বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় কর্ণফুলী নদী তীরে প্রাকৃতির পরিবেশ সুবিশাল জায়গা দেখে সেখানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করে অবকাশ যাপন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছে। পরে আমিরাতের বাদশার পছন্দ ও ইচ্ছে অনুযায়ী এরশাদ সরকার মাত্র ১০১ টাকা প্রতীকী মূল্যে নাহিয়ানকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় ১২০ একর ভুমি শুভেচ্ছা হিসেবে প্রদান করেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে জায়গাটি বুঝে নিয়ে ১৯৮৯ সালে সেখানে প্রাসাদ নির্মাণের কাজও শুরু করে নাহিয়ানের পরিবার। মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্য রীতিতে সুবিশাল দুটি তোড়ন নির্মাণ, প্রাসাদে যাতায়তের জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক এবং ১২০ একর ভূমির চতুর্পাশে প্রাচীর নির্মাণ করে প্রাসাদ তৈরির উপযোগী করা হয় পুরো ভুমি। প্রায় তিন বছর নির্মাণ কাজ চলার পর অজ্ঞাত কারনে কাজ বন্ধ করে দেন বাদশা আল নাহিয়ান। পরবর্তীতে বাদশা নাহিয়ান মারা গেলে প্রকল্পটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করেন নাহিয়ান পরিবার। বাদশার মৃত্যুর পর এই ভুমিটি নাহিয়ান পরিবারের জনকল্যাণমুলক সংস্থা নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের অধীনে চলে যায়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে পরিত্যাক্ত থাকায় বিশাল ভুমিটি কাজে লাগানোর উদ্যোগ গ্রহন করেন রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। এ লক্ষ্যে তিনি বাদশা আল নাহিয়ানের পুত্র এবং নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওই প্রকল্পে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণে নাহিয়ান পুত্রকে রাজি করাতে সম্মত হন রাঙ্গুনিয়ার এই সংসদ সদস্য। সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি রাইজিংবিডিকে বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরব আমিরাত সফরকালে নাহিয়ান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এ ব্যাপারে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তি হয়ে গেলে আমিরাতের ওই প্রকল্পে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক এবং আন্তর্জাতিক সকল সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশ এবং নাহিয়ান ফাউন্ডেশন এই প্রকল্পে যৌথভাবে বিনিয়োগ করবে।