আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: একদিকে সাগর অন্যদিকে পাহাড়। সেখানে ছোট বড় ঝর্ণা, সারিসারি ঝাউবন এসব অনুভূতি এক অদ্ভুত শিহরণ জাগায় হৃদয়ের গভীরে। চোখের সামনে ভেসে আসে কক্সবাজারের অপরূপ সৌন্দর্য। শুধুমাত্র এ বিশেষণেই বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে অতি পরিচিত নাম কক্সবাজার।

বিশ্ববাসী জানে, বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত নগরী কক্সবাজার। এ কারণে প্রতিবছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ভ্রমণ পিপাসু এ নগরের সান্নিধ্যে ছুটে আসেন। কক্সবাজারও তার মোহনীয় সৌন্দর্য্যে রাঙিয়ে দিয়ে অপার আনন্দে ভরে দেয় প্রকৃতি পাগল মানুষগুলোকে।

আজ শনিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস। এদিকে পর্যটন দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় “স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে পর্যটন”। সেই লক্ষ্যে উন্নয়নে এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনে কক্সবাজারে অন্যরকম প্রস্তুতি নিয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এর মধ্যে পর্যটন জেলা প্রশাসন ও করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকবে মূল কর্মসূচি। এছাড়া হোটেল ও মোটেল গুলোর মালিকরা তাদের নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলাদা কার্যক্রম রয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও পর্যটন করপোরেশনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সকাল ১০ টায় ‘জ’ ভাস্কর্য থেকে লাবণী পয়েন্ট সব পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসহ সর্ব সাধারণের অংশগ্রহণে র‌্যালি। এছাড়া র‌্যালিতে অংশগ্রহন করা প্রত্যেকের হাতে থাকবে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড। র‌্যালি শেষে লাবণী পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হবে একটি আলোচনা সভা।

এছাড়া বিকেল ৪টায় জেলা পরিষদের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মেহরীন। এছাড়াও স্থানীয় আদিবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরবে।

এদিকে হোটেল কক্স টুডেতে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সী ফুড প্রদর্শনীসহ নানা রকমের আয়োজন। এ উপলক্ষে আলোক সজ্জাসহ ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো হোটেল গুলোর আঙিনা। এ উপলক্ষে ৫০% ছাড় দেয়ার ঘোষণা করেছে হোটেলটির কর্তৃপক্ষ। একইভাবে হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতিও পর্যটকদের জন্য ছাড়সহ নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

এছাড়া তাদের হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউজগুলোতে সর্বোচ্চ ৭০% এবং রেস্তোরাগুলোতে ১০% ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনের সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।

পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কৃতিত্বে সিংহভাগ সৌন্দর্যের অধিকারী কক্সবাজার। এর ব্যাখ্যায় তারা বলেন, সমুদ্র সৈকতের নগরী হিসেবে কক্সবাজার বিশ্ব সমাদৃত হলেও সাগরের সঙ্গে আলিঙ্গন করে দাঁড়িয়ে রয়েছে অপার সুন্দর পাহাড় ও ঝর্ণা। রয়েছে ঐতিহ্যের সাক্ষী বিভিন্ন ধর্মীয় পর্যটক আকর্ষণীয় স্থাপনা।

এছাড়া পর্যটকের নানা ভাবে আলোড়িত করে হিমছড়ি ঝর্ণাপাহাড়, দরিয়ানগর পার্ক, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামুর সুরম্য বৌদ্ধবিহার, নয়নাভিরাম সোনাদিয়া দ্বীপ, প্রবাল পাথরের আঙিনাখ্যাত সেন্টমার্টিন দ্বীপ, স্থলবন্দর, মাথিনের কূপ, কানা রাজার সুড়ংগ, ইনানী পাথুরে বীচ, দুলহাজরা সাফারী পার্ক, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ মার্কেট, শুটকী মহাল, বিমান বন্দর, প্যাগোডা (জাদী), হ্যাচারী, লাইট হাউস, হিলটপ সার্কিট হাউস ও রাডার স্টেশন।

এদিকে সৈকতের পাশাপাশি পর্যটন স্পট হিসেবে এগুলো কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে দান করেছে ভিন্নমাত্রা। বিমোহিত করে দেশি-বিদেশী পর্যকদের। তাইতো পর্যটকদের স্বর্গের মতো আকৃষ্ট করে কক্সবাজার।

তবে পর্যটন শিল্প হিসেবে এখানকার পর্যটন সম্ভাবনাকে যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এমন অভিযোগ করেন।

তারা অভিযোগ করে বলেন, কক্সবাজার বিশ্বমানের পর্যটন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই পর্যটনের উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। এ কারণে ঘাটতি না থাকলেও পর্যটনের অপার সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়নি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেষ্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘কক্সবাজার বিশ্ববাসীর নানার বাড়ি। তাই এখানে বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসুরা বার বার ছুটে আসেন। কিন্তু আমরা তাদেরকে যথাযথ সেবা দিতে পারছি না।’

বর্তমানে কক্সবাজার শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার যে নাজুক অবস্থা তাতে চরম বিব্রত বোধ করছে পর্যটকরা। অনেক ক্ষেত্রে ভোগান্তি আর বিড়ম্বনায় তারা কক্সবাজারকে সেভাবে মূল্যায়ন করতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বাদ দিলে অন্য ক্ষেত্রেও রয়েছে অপূর্ণতা। পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন বিনোদনের জন্য আনুষঙ্গিক অবকাঠামোও অনেক দূর্বল।’

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকদের আপ্যায়নের ক্ষেত্রে কোন ধরণের অপূর্ণতা নেই। তিন শতাধিক বিশ্বমানের হোটেল-মোটেলের পাশাপাশি এখানে রয়েছে রুচিশীল আধুনিক খাবারের সমাহার। পাশপাশি ঝিনুক, বার্মিজ সামগ্রীসহ পর্যটকদের মনপুত রকমারী সরঞ্জমাদির সুবিধা রয়েছে।

কক্সবাজার পর্যটন করপোরেশন এর ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প নিয়ে নিরলস কাজ করে চলছে পর্যটন করপোরেশন। একই সঙ্গে সরকারও কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে আলাদাভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনার অংশ হিসাবে হাতে নেয়া সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্টজোন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর পাশাপাশি ধারাবাহিক নানা অবকাঠামো তৈরিতে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আমরা কেউ বসে নেই। ক্রমান্বয়ে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’