সয়েললেস গার্ডেন অর্থাৎ মাটিবিহীন বাগান

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: সয়েললেস গার্ডেন অর্থাৎ মাটিবিহীন বাগান। শুনতে অবাক লাগলেও এ বাগানে সত্যিই মাটির দরকার পড়ে না। আর এটা কিন্ত্ত অনেক পুরনো একটা পদ্ধতি। ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান-এর কথা তো আমরা সবাই জানি। এটাও কিন্ত্ত একটা হাইড্রোপোনিক বা সয়েললেস গার্ডেনেরই উদাহরণ। হাইড্রোপোনিক একটা ল্যাটিন শব্দ। হাইড্রোপোনিক কথাটায় রয়েছে হাইড্রো মানে পানি। আর পানির সাহায্যে সরাসরি গাছের মূলে প্রয়োজনীয় খনিজ পুষ্টিগুণ সরবরাহ করা।সয়েললেস বা হাইড্রোপোনিক পদ্ধতিতে বাগান করার জন্য নিষ্ক্রিয় অজৈবকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফুলগাছ, ক্যাকটাস, অর্কিড, মানিপ্ল্যান্ট প্রায় আমাদের সকলের বাড়িতেই থাকে। এবার একটু নতুন কিছু করলে ক্ষতি কী? নিজের ভালো লাগার সঙ্গে বাকি সবার মুগ্ধতা এতে বাড়বে বই কমবে না। তাই একবার চেষ্টা করে দেখতেই পারেন এই নতুন পদ্ধতির বাগান। তাহলে দেখা যাক, কীভাবে করবেন সয়েললেস গার্ডেন। তৈরি পদ্ধতি : গাছের বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে এখানে প্রি-গ্র্যাভেল বা মাঝারি আকৃতির নুড়ি, বালি পারলাইট প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। মাধ্যমকে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় সিক্ত রাখতে চাইলে গ্র্যাভেলেরে সঙ্গে বালি মেশানো দরকার তবে লক্ষ্য রাখতে হবে মাধ্যমে যেন যথেষ্ট হাওয়া চলাচল করতে পারে। শিকড় এবং গাছের বৃদ্ধির জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে দুটো ননমেটালিক পাত্র নিতে হবে। যাতে সলিউশনের জন্য কোনো বিক্রিয়া না ঘটে। তারপর একটি পাত্রের নীচে পানি বের হওয়ার জন্য তিন চারটে গর্ত করে তার ভেতর মিডিয়াম অর্থাৎ মাঝারি সাইজের নুড়ি, বালি, পারলাইট এগুলো দিয়ে তাতে পছন্দ মতো গাছ বসান। অন্য পাত্রটিতে খনিজপুষ্টিগুন সমৃদ্ধ অর্থাৎ সলিউশন মেশানো পানি রাখুন। এই সলিউশন আপনি কিনতেও পারেন অথবা নিজে বানিয়েও নিতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যে দুটো পাত্র ব্যবহার করছেন সে দুটো পাত্র যেন আকারে সমান হয়। এরপর যে পাত্রে গাছ রেখেছেন তার নীচে পানি বের হওয়ার যে গর্ত করেছেন তাতে তিন চারটে মোটা সলতে লাগান। এগুলো যেন গ্র্যাভেলের মধ্যে তিন থেকে চার ইঞ্চি ঢুকে থাকে। সলতের নীচের অংশটা সলিউশন মেশানো পানি চার ইঞ্চি যাতে ডুবে থাকে সেদিকেও বিশেষ নজর রাখবেন। এই প্রক্রিয়ায় নীচের সলিউশন দ্বারা ওপরের গাছের মাধ্যম সিক্ত হবে এই প্রক্রিয়াটি আপনি পাম্প দিয়েও করতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন, ওপরের পাত্র থেকে অতিরিক্ত পানি যাতে উপচে না পড়ে একই সলিউশন সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত আপনি আবার ব্যবহার করতে পারেন। সতর্কতা : মাধ্যম হিসেবে জৈব উপাদান তুষ বা কোকোপিটও ব্যবহৃত হয়। তবে এতে ফাংগাস এবং কীটের উপদ্রব এর সম্ভাবনা থাকায় এগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আর বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন মাধ্যমে যেন সলিউশনের কঠিন উপাদানগুলো জমা না হয়৷ যদি জমা হয় তবে পরিষ্কার পানি দিয়ে তা ধুয়ে বের করে দিতে হবে। কোনো ধরনের গাছ : প্রধানত কিচেন গার্ডেন এই প্রক্রিয়ার জন্য আদর্শ। বেসিল, তুলসী, লেমনগ্রাস প্রভৃতি আপনি এই পদ্ধতিতে করতে পারেন। তবে এ পদ্ধতিতে কৃষিবিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত স্ট্রবেরি, টমেটো, বেগুন, শসা, মরিচ, সিম, খিরা, লেটুস পাতা, ক্যাপসিকাম, গাঁদা ফুল, চন্দ্রমল্লিকা, ধার বেড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রোকলির ওপর পরীক্ষা চালিয়েও সাফল্য পেয়েছেন।বাড়িতে সলিউশন তৈরি পদ্ধতি : বাড়িতে সলিউশন বানাতে গেলে পঞ্চাশ লিটার পানির সঙ্গে একুশ গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, এগারো গ্রাম ক্যালসিয়াম সালফেট একশো বারো গ্রাম পটাসিয়াম ক্লোরাইড, দু`শো চব্বিশ গ্রাম অ্যামোনিয়াম ফসফেট, তিনশো ছত্রিশ গ্রাম অ্যামেনিয়াম সালফেট এই উপাদানগুলোকে ভালো করে মিহি করে পানিতে গুলে নিতে হবে। সুবিধা : ১) কীট এবং ছত্রাকের সম্ভাবনা কম থাকায় আপনি কীটনাশকবিহীন, বিশুদ্ধ ফলন পাবেন এই পদ্ধতির বাগানে। ২) এতে আগাছার সম্ভাবনা প্রায় নেই। ৩) রাসায়নিক কীটনাশক এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। ৪) কীটের আক্রমণ অনেক কম। ৫) সলিউশনটি বারবার ব্যবহারযোগ্য। ৬) গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফলও তুলনামূলকভাবে বেশি। অসুবিধা : ১) হাইড্রোপোনিক পদ্ধতি ঠিক মতো কাজ না করলে মূল শুকিয়ে গাছ মরে যাবে। ২) বৈদ্যুতিক পাম্প ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হয় বেশি।