শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: ঈদ উল আজহা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সরকারি হিসাবে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের মোট ২৫৭টি কারখানায় বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস এবং ছুটির বিষয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃহ্স্পতিবার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি (গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধসহ) ও আনুষঙ্গিক বিষয় সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কারখানায় অস্থিরতার কারণ; মহাসড়কের যানজট এড়াতে শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি; শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এতে পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ ফায়ার সার্ভিস ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভার মূল আলচ্য বিষয় ছিল- গার্মেন্টস সেক্টরে বিরাজমান অবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

সভায় বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গার্মেন্টস সেক্টরে অস্থিরতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাতা ও পিস রেট বৃদ্ধির দাবি, কাজের অর্ডার কমে যাওয়া ও ফ্যাক্টরি বন্ধ সংক্রান্ত সমস্যা, যথাসময়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা, নির্দিষ্ট হারে উৎসব ভাতা না দেয়া, শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রভাব/উসকানি, বাড়ি ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি।

জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ ইত্যাদি এলাকার ১০৫টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিক শ্রমিকদের আগস্ট মাসের বেতন ভাতাদি পরিশোধ করতে পারেনি। নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চলের ৫৮টি সভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ৪৯টি, টঙ্গী-গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ৪৫টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা, ঈদ বোনাস এবং ছুটির বিষয়েও কিছু সমস্যা রয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ ফ্যালকন গ্রুপের এমডি কারাগারে আটক থাকায় ওই কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

সভার দ্বিতীয় আলোচনার বিষয় ছিল- মহাসড়কের যনজট পরিহারের লক্ষ্যে শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে বলা হয়েছে, যানবাহনে ভিড়ের চাপে কমানো এবং অস্বাভাবিক যানজট পরিহারের লক্ষ্যে ঈদ উপলক্ষে গার্মেন্টস শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটির ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সড়ক/মহাসড়ক এবং বিভিন্ন ফেরীঘাটে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয় সে লক্ষ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও সব জেলা পুলিশকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ, বিশৃঙ্খলা বা যে কোনো নাশকতামূলক কার্মকাণ্ড রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নজরদারি বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া, বেতন-ভাতাদি পরিশোধের সুবিধায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাংক খোলা রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সভা থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাতে বলা আছে, শ্রমিকদের বেতন-ভাতাদি দেয়ার সুধিার্থে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর দুই শনিবার শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ববস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।