বার্তাবাংলা ডেস্ক »

bagerhat-ssm20120618111831বার্তাবাংলা ডেস্ক ::বাগেরহাটের সুন্দরবনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই বনদস্যু নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর এলাকায় বনদস্যুদের সঙ্গে র‌্যাবের এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় র‌্যাব সদর দপ্তর ও র‌্যাব-৮-এর একটি দল যৌথ অভিযান চালায়।
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব-৮-এর উপ-অধিনায়ক মেজর সাব্বির রহমান ওসমানী নিহত দুই বনদস্যুর নাম জানান। এঁরা হলেন: বনদস্যু শহীদুল বাহিনীর প্রধান শেখ শহীদুল ইসলাম (৪০) ও বাকি বিল্লাহ বাহিনীর সদস্য মুজিবর রহমান মোল্লা (৩৮)। শহীদুল বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মৃত দলিল উদ্দিন শেখের ছেলে ও মুজিবর খুলনার দাকোপ উপজেলার আবু তালেব মোল্লার ছেলে।
র‌্যাব জানায়, গত সোমবার শেলারচর এলাকায় বনদস্যুদের অবস্থান সম্পর্কে তারা গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পায়। আজ ভোরে র‌্যাবের যৌথ দলটি হেলিকপ্টারযোগে শেলারচর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় বনদস্যুরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করলে সকাল সোয়া নয়টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বন্দুকযুদ্ধ হয়। ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ শেষে পিছু হঠতে বাধ্য হয় বনদস্যুরা। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় জেলেরা নিহত ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন।
র‌্যাব আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ১৪টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি পিস্তল, ছয়টি দেশি একনলা বন্দুক, পাঁচটি দেশি ওয়ান শুটার গান, দুটি এয়ারগান, পিস্তলের পাঁচটি ও বন্দুকের ২৫টি গুলি। এ ছাড়া ১৫টি গুলির খালি খোসা।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে বনদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। তবে র‌্যাব তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে কিছু জানায়নি।
গত ১৮ জানুয়ারি সুন্দরবনের চরাপুটি এলাকায় মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদকে হত্যার পর থেকে বনদস্যু দমনে র‌্যাব সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গত ২২ জানুয়ারি বাগেরহাটের ভেদাখালী নামক স্থানে বনদস্যু বাহিনীর প্রধান জাকির নিহত হন। আজ আরও এক দফা বন্দুকযুদ্ধে এই দুজন বনদস্যু নিহত হলেন।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »