স্বাধীনতা প্রত্যাখ্যান স্কটিশদের

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অধীনে থাকবে, নাকি স্বাধীন দেশ হবে- কয়েক দিন এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছিল জোর জল্পনা-কল্পনা। অবশেষে সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে গণভোটে স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় দিয়েছে স্কটিশরা। এর ফলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের ৩০৭ বছরের সম্পর্কের বন্ধন অটুট রইল। গণভোটের সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল মতে, ৩২ প্রশাসনিক কাউন্সিলের মধ্যে ৩০টি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্বাধীনতার পক্ষে ১৫ লাখ ১২ হাজার ৬৮৮ হ্যাঁ ভোটের বিপরীতে এর বিপক্ষে না ভোট পড়েছে ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ২৫২। জয়ের জন্য যেকোনো পক্ষের প্রয়োজন ছিল ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮২৮ ভোট। কম্পিউটার গণনায় স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৫৫ শতাংশ আর পক্ষে মাত্র ৪৫ শতাংশ। ইতিমধ্যে স্বাধীনতাকামী নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফাস্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড ঐতিহাসিক এ গণভোটে নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা বলা গুরুত্বপূর্ণ যে, আমরা গণভোটের ব্যাপারে আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিলাম। সংখ্যাগরিষ্ঠ স্কটিশরা স্বাধীনতার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। পাশাপাশি একীভূত রাষ্ট্র হিসেবে থাকার জন্য যুক্তরাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্কটিশ পার্লামেন্টের আরো ক্ষমতা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলো, তা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন স্কটিশদের এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। গণভোট উপলক্ষে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী ও বিরোধীদের মধ্যে যে বিভেদের রেখাপাত ঘটেছিল তা মুছে ফেলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাধীনতা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য স্কটিশদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন। গণভোটে জয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর উল্লাসে ফেটে পড়েন স্বাধীনতা বিরোধীরা। স্কটল্যান্ডের রাজপথে আনন্দ মিছিলও বের করে তারা। এ জয় তাদেরকে আরো বেশি সম্মান ও মর্যাদা দেবে বলেও মন্তব্য করেন তারা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ২৬০৮টি কেন্দ্রে এ ভোটগ্রহণ চলে। ৪২ লাখ ৮৫ হাজার স্কটিশ এ তাদের ভোটারাধিকার প্রদান করেন। ইউরোপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়ে এই গণভোটে।