বোলিং অ্যাকশনে অভিযুক্ত সোহাগ গাজী

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাঈদ আজমলের বোলিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নেমে আসায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে ক্রিকেটবিশ্বে। পাকিস্তানি অফস্পিনারের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্তে চিন্তার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বাংলাদেশেরও। কদিন আগেই যে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন অফস্পিনার সোহাগ গাজী।
সেন্ট ভিনসেন্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান টেস্টে থাকতে পারতেন সোহাগও। কিন্তু তাঁর ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই টিম ম্যানেজমেন্ট সে ঝুঁকি নেয়নি। সফরের মাঝপথে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে দেশে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সোহাগের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অফিসিয়ালরা। নির্দিষ্ট কোনো বল নিয়ে আপত্তি নয়, আম্পায়ারদের চোখে সোহাগের সব বলই নাকি সন্দেহজনক! আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে এ-সংক্রান্ত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয় বোলারদের। সোহাগের ক্ষেত্রেও আছে একই বাধ্যবাধকতা। সে হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে সোহাগকে। আজমলের পরীক্ষা যেমন হয়েছে অস্ট্রেলিয়াতে, ঠিক তেমনি সোহাগের অ্যাকশনের পরীক্ষা হবে কার্ডিফের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ল্যাবে। ব্রিটিশ ভিসাপ্রাপ্তির সাম্প্রতিক দীর্ঘসূত্রতা ও ঝামেলা বিবেচনা করেই সোহাগকে দ্রুত ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে দেশে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১৭ সেপ্টেম্বর কার্ডিফের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন সোহাগ।
কার্ডিফে উতরে গেলে তো কথাই নেই। বুক ফুলিয়ে ফিরতে পারবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। কিন্তু তাঁর বোলিং অ্যাকশন যদি সেখানে শুদ্ধতার ছাড়পত্র না পায়, তাহলে এক দুঃস্বপ্নেরই মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে। যন্ত্রণাদায়ক সেই দুঃস্বপ্ন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলিয়ে একজন ক্রিকেটারের জন্য কতটা যন্ত্রণার, সেটা এই মুহূর্তে ভালোই টের পাচ্ছেন সাঈদ আজমল।
আপাতত সোহাগের ব্যাপারে আশায় বুক বেঁধেই থাকতে হচ্ছে। সাঈদ আজমলের ক্ষেত্রে না হলেও বোলিং অ্যাকশন-সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার উদাহরণ আছে যথেষ্টই। বড় উদাহরণ তো দেশেই রয়েছে—আবদুর রাজ্জাক। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও ‘বেঁচে’ এসেছেন। রাজ্জাকের মতো সোহাগ কি পারবেন না? উত্তর জানতে করতে হবে আরও কিছু দিনের অপেক্ষা।