বন্যা পরবর্তী দুই মাস ঋণ বন্ধ রাখার নির্দেশ

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীদের কাছ থেকে বন্যাকালীন এবং বন্যা পরবর্তী দুই মাস ঋণ আদায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশের এনজিওগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সোমবার এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ নির্দেশ দেয়।

দেশে কার্যরত সব এনজিও প্রধানকে পাঠানো এ সার্কুলারে বলা হয়, ‘বন্যার প্রকোপ, ক্ষতির পরিমাণ, গ্রাহকদের আর্থিক অবস্থা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে বন্যাকালীন ও বন্যাপরবর্তী ন্যূনতম দুই মাস বিদ্যামান ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে পরামর্শ দেয়া হলো।’

সংস্থাটি সার্কুলারে জানিয়েছে, নতুনভাবে ঋণ প্রদানপূর্বক চলমান ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ করতে হবে। গ্রাহকদের ঋণ থাকা অবস্থায় শতভাগ সঞ্চয় উত্তোলনের সুবিধা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্ত সামর্থহীন গ্রাহকদের জরুরি খাবার ও ওষুধ সরবরাহ এবং বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনে সহায়তা করতে হবে।

দেশের বন্যা কবলিত ১৭ জেলায় এ সার্কুলার প্রযোজ্য হবে। জেলাগুলো হচ্ছে- ঢাকা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, জামালপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ।

উজান থেকে নেমে আসা পানিতে গত দুই মাস ধরে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা চলছে। প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় ১ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এসব জমিতে রোপা আমন, বোনা আমন ও আউশ ধান এবং শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল ছিল।

ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্কুলারে বলা হয়, বন্যায় দেশের ১৭ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ঘর-বাড়ি, ক্ষেত-খামার, আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকার বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।