মাদারীপুরে কবর থেকে লাশ উত্তোলন

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মুছারকান্দি গ্রামের আবুল খায়েরের (৩৫) লাশ ৩৬ দিন পর বুধবার দুপুরে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে রাজৈর উপজেলা মুছারকান্দি গ্রামের আব্দুল খালেক সিকদারের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী আবুল খায়েরের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শ্রীকৃষ্ণদি গ্রামের ছালাম মাতুব্বরের মেয়ে পারভীন আক্তারের বিয়ে হয়।

খায়েরের শ্বশুর তার শ্যালককে বিদেশে পাঠানোর জন্য খায়েরের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেন। পরবর্তী সময়ে খায়ের ঢাকায় গিয়ে ফলের ব্যবসা শুরু করেন। এদিকে স্বামীর অবর্তমানে পারভীন পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। কিছু দিনের মধ্যে পারভীনের ওই পরকীয়ার ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। খায়ের পারভীনকে সংশোধন হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে পারভীনের বাবার কাছ থেকে ধারের টাকা ফেরত চান। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে খায়েরকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

২৯ জুলাই রাতে পারভীন ও তার ভাইয়ের যোগসাজসে খায়েরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে খায়েরের লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেন।

বিষয়টি প্রতিবেশী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামের্শ পুলিশ হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য পরিবার থেকে খায়েরের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দাফন করে।

এ ঘটনার ১ সপ্তাহের মধ্যে খায়েরের স্ত্রী তার দুই নাবালক সন্তানসহ বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এতে আত্মহত্যার বিষয়টি খায়েরের পরিবারে সন্দেহ হলে ১১ আগস্ট নিহত খায়েরের মা রোজিয়া বেগম বাদী হয়ে পারভীনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে মাদারীপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহার ইয়াসমিন ১৯ আগস্ট খায়েরের লাশ কবর থেকে উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

এ আদেশ ২৭ আগস্ট রাজৈর থানায় পৌঁছে। ৩১ আগস্ট কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুরে মাদারীপুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বদরুদ্দোজা শুভের উপস্থিতিতে রাজৈর উপজেলার মুছারকান্দি গ্রামের পারিবারিক কবর থেকে ৩৬ দিন পর আবুল খায়েরের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।