আর্থিকখাত নাজুক হওয়ার আশঙ্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

বার্তাবাংলা রিপোর্ট :: পুঁজিবাজার, বীমা খাত, ক্ষুদ্রঋণ খাতের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়, করপোরেট ঋণে সেকেন্ডারি ট্রেডিং, ঋণমানের অবনতির বিপরীতে দ্রুত রেজুলেশন, বাজার ঝুঁকি কাভারেজের জন্য হেজিং প্রোডাক্ট গ্রহণে আর্থিকখাত নাজুক আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ফিনান্সিয়াল রিপোর্ট-২০১৩ এর মোড়ক উন্মোচনকালে এ আশঙ্কার কথা জানান।

বুধবার বিকেল ৩টায় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এই নাজুক পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী করছে আর্থিক খাত আরো উন্মুক্ত হওয়াকে। পাশাপাশি দায়ী করা হচ্ছে প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাপক পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে।

গভর্নর বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পেরেছে। আর্থিক অবস্থার নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংলাদেশ ব্যাংক সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আর্থিক খাতের কার্যকর তদারকির ওপরও যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কোনো সিস্টেমিক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়নি। এমনকি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার চরম পর্যায়েও এরূপ ঘটনা ঘটেনি। তা সত্ত্বেও আর্থিক ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি আবির্ভুত হওয়ার উদ্বেগ এখনো আমাদের সামনে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, নুজনিন সুলতানা, সুপারভিশন কার্যক্রমের উপদেষ্টা গেন টাস্কি ও সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের প্রধান নির্বাহীরা।

উল্লেখ্য, ফিনান্সিয়াল স্টাবিলিটির রিপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতের গতি প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা প্রদান করে থাকে। ২০১৩ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবণতা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সেগুলোর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে মূলধন পর্যাপ্ততা, সম্পদের গুণগতমান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মান এবং বহির্বিশ্বের সুদহার ও বিনিময় হারের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য।