শ্রমিকদের দাবি না মানলে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ, তোবা মালিকের জামিন বাতিল ও সকল প্রতিষ্ঠান চালু করা না হলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার হহুঁশিয়ারি দিয়েছেন তোবা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি মোশরেফা মিশু। এসময় তিনি নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে একজন প্রকৃত দালাল বলে আখ্যায়িত করেন।

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তোবা শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে তিন দফা দাবি আদায়ে আয়োজিত অবস্থান ধর্মঘটে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। অবস্থান ধর্মঘটে ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও শ্রমিকরা অংশ নেন। বেলা ১১টা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ অবস্থান ধর্মঘট চলে।

মোশরেফা মিশু বলেন, ‘সরকার ও বিজিএমইএ শ্রমিকের জাত নয়, এরা উভয়ই মালিকদের দালাল। সারা বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এদের প্রতিহত করে শ্রমিক শ্রেণীর সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

‘নৌমন্ত্রী পকেট কমিটি দিয়ে দালালি করছে’ এমন অভিযোগ করে এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘শাজাহান খান একই সঙ্গে নৌমন্ত্রী, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা ও পরিবহণ শ্রমিক নেতা। আসলে তিনি একজন প্রকৃত দালাল। আর তার দালালির শিকার হচ্ছেন অসহায় শ্রমিকরা।’

দেলোয়ার (তোবা মালিক) অনেক সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, তোবার কারখানা বন্ধের যে নোটিশ দেয়া হয়েছে তা মালিকের সক্ষমতার অভাবে নয়, শ্রমিকদের ঠকানোর জন্যই এ ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছে। অথচ সরকার এ নিয়ে কথা বলছে না।’

মিশু বলেন, ‘তোবা মালিক দেলোয়ার ব্যাকডেট দিয়ে কারখানা বন্ধের নোটিশ জারি করে। সেটাকে চ্যালেঞ্জ করে সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে গত ২৭ আগস্ট উকিল নোটিশ দেয়া হয়েছে। তার জবাব এখনও পাওয়া যায়নি। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে উকিল নোটিশের জবাব না পেলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

সকল কারখানার শ্রমিকদের উদ্দেশে মিশু বলেন, ‘যেসব কারখানার মালিকরা আপনাদের বেতন দেয় না, আমাদেরকে তাদের ঠিকানা দিন, আমাদেরকে বিস্তারিত জানান, যেখানেই হোক না কেন আমরা শ্রমিকদের দাবি আদায়ে সেখানে উপস্থিত হবো।’

ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক বলেন, ‘শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে গার্মেন্টস মালিকরা কিছু পকেট শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলেছে। এরা শ্রমিক নেতা সেজে মালিক ও সরকারের দালালি করছে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। তাহলেই শ্রমিকদের সার্থ হাসিল করা সম্ভব হবে।’

সিপিবির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশে বেতন বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করা হয় কিন্তু বকেয়া বেতন আদায়ে কোনো দেশে আন্দোলন হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আইন অনুযায়ী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেয়া না হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। অথচ গত তিন মাস ধরে তোবা শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করতে গেলে পুলিশ উল্টো তাদের নির্যাতন করছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস মালিকরা শোষক আর সরকার শোষকের আশ্রয় দিয়ে জালিম সরকারে পরিণত হয়েছে।’

অবস্থান ধর্মঘটে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, মুক্তি কাউন্সিলের ফয়জুল হাকিম লালা, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, জলি তালুকদার, লিমা প্রমুখ।