মহাসড়কে নেই আগের সেই চিত্র

বার্তাবাংলা ডেস্ক::মহাসড়কে নেই আগের সেই চিত্র। নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা। নেই কিলোমিটারের পর কিলোমিটার গাড়ির দীর্ঘ লাইন। নেই ঘরে ফেরার অসহনীয় ভোগান্তি।

গেলবারের ঈদের তুলনায় এবার মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। যানবাহন ছুটে চলছে নির্বিঘ্নে। কখনও হয়তো দেখা দিচ্ছে খানিকটা যানজট। তবে পুলিশি তৎপরতায় মুহূর্তেই মিলিয়ে যাচ্ছে যানবাহনের সে জট।

ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেশি হলেও গেল বছরের মতো তীব্র যানজট নেই। অনেক স্থানীয় তীব্র বেগে ছুটে চলছে গাড়ি। কোথাও মহাসড়কে ইট ফেলে সদ্য মেরামত করা স্থানে কিছুটা ধীরে চলছে গাড়ি। কোথাও যানবাহন হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে গাড়ির জটলা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রাজেন্দ্রপুর, মাওনা চৌরাস্তা ও জৈনা বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিকের চেয়ে যানবাহনের গাড়ির চাপ বেশি। তবে গেল বছরের ঈদে তীব্র যানজটের ঝক্কি নিয়ে যেমন করে যাত্রীরা শঙ্কিত হয়েছিলেন এবার তা নেই।

উত্তরাঞ্চলের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর এবং কিশোরগঞ্জ জেলার শত শত যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে এ মহাসড়ক দিয়ে। এসব বাস অনেক সময় মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পুলিশি তৎপরতায় বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না এ জট।

প্রভাতী-বনশ্রী পরিবহনের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক সন্ধ্যায় বাংলামেইলকে জানান, দিনের চাইতে রাতেই এ মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেশি থাকে। আজ রাতে গাড়ির চাপ বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সড়কের শ্যামলী বাংলা পরিবহনের চালক রফিকুল বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী বাস ঈদের আগে মহাসড়কে ঢুকে পড়ে। বেশি আয়ের আশায় তারা যত্রতত্র পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করার কারণে যানজট লেগে যায়।’

এদিকে, দুপুরের দিকে হালকা বৃষ্টিপাত হওয়ায় চারলেন প্রকল্পের মাওনা চৌরাস্তা ইট ও বালু বিছানো মহাসড়ক হয়ে ওঠে কাদাযুক্ত। এসব স্থানে গাড়ি চলাচলে ধীরগতি দেখা গেছে। এর ওপর চৌরাস্তায় এসে বাসগুলো দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

আবার ঈদ উপলক্ষ্যে মহাসড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ কাপড় ব্যবসায়ীদের দোকানও গাড়ি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে কখনও মহাসড়ক ফাঁকা, কখনও যানজট দেখা যাচ্ছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের অনেকেই বাসের ছাদে ও ট্রাকে চলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।

অপরদিকে, যোগাযোগমন্ত্রীর ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসের পরেও মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলছে পণ্যবাহী গাড়ি।

ময়মনসিংহগামী এনা পরিবহনের চালক শামীম বাংলামেইলকে জানান, একেকটি ট্রাকে ১৫ থেকে ২৫ টন পণ্য বোঝাই করা থাকে। এসব ট্রাক মহাসড়কের ওপর ভেঙে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ধীরগতিতেই চলে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছানোয়ার হোসেন বাংলামেইলকে জানান, মহাসড়কে একেবারেই যানজট নেই। তবে মাওনা ফ্লাইওভারের মাঝ দিয়ে মানুষ রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় একটু যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।