‘খালেদার মিস করা ট্রেন ২০১৯ সালের আগে আসবে না’

বার্তাবাংলা ডেস্ক::বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ট্রেন মিস করেছেন সেই ট্রেন আর ২০১৯ সালের আগে আসবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিকে পুঁজি করে আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ জনগণের রায় নিয়ে নির্বাচিত হবে ইনশাল্লাহ। সেই লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।

আজ সোমবার সিরাজগঞ্জ জেলা আওযামী লীগ আয়োজিত ইফতারপুর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করতো। এই দেশে থাইল্যান্ডের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এতে অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে কষ্টার্জিত গণতন্ত্র ধংস হয়ে যেত। ২০১৯ সালের আগে দেশে আর কোন নির্বাচন হবে না। সেই নির্বাচনও সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধিনেই অনুষ্ঠিত হবে এর কোন বিকল্প নেই।

শহরের হৈমবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইফতারপুর্ব এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, মোস্তফা কামাল খান, উপজেরা চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, হাজী ইসহাক আলী, আব্দুস সাত্তার শিকদার, দানিউল হক দানী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিনি কাজীপুর থেকে সিরাজগঞ্জ আসার পথে পিপুলবাড়িয়ায় শহীদ মনসুর আলী সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

মোহাম্মদ নাসিম বর্তমান সরকারে বিদ্যুত, কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার সাহসিকতায় আন্তর্জাতিক আদালতে আইনী লড়াই করে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র নিয়ে বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্র অঞ্চল জয় করেছে। বিশাল এ সাফল্য অর্জনের পরও শুধু হীণমন্যতার কারণে বিএনপি নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারনা চালাচ্ছে। অথচ তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও তালপট্টিতে বাংলদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। বরং মানচিত্র থেকে তালপট্টির অস্তিত্বই মুছে ফেলেছিল। এখন তারাই তালপট্টি নিয়ে কুম্ভিরাশ্রু বর্ষণ করছে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়া সব হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে এখন আবোল তাবোল প্রলাপ বকছেন। তার এই ভুল শোধরানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে তিনি এখনও ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন। তার দলের নেতা-কর্মীরাও এখন হতাশ।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল করেছেন তার খেসারত বেগম খালেদা জিয়াকেই দিতে হবে। তিনি এখন সংসদের সব পদ হারিয়ে সাধারণ একটি দলের নেতা হিসেবে দেশে রাজনীতি করছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাঁধাগ্রস্থ করে ভবিষ্যতে কেউ যদি দেশে কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ ও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করে তবে তা কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। জনগনের স্বার্থেই সরকার এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরন করবে।

তিনি বিএনপিকে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক রাজনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।