ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করলেন গভর্নর

বার্তাবাংলা ডেস্ক::ব্যাংকিং খাতে অনিয়মের বিষয়ে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। একইসাথে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বিবেচনায় শিল্পঋণের সুদ কমানোর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রিয় ব্যাংক।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে ব্যাংকার্স সভায় প্রধান নির্বাহীদের সতর্ক করেন গভর্নর।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত জন-আস্থানির্ভর। দু’একটি অনিয়মের ঘটনা সমস্ত ভালো কাজকে ম্লান করে দেবে তা হতে পারে না। এরপর ঋণ শৃঙ্খলায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।

তিনি সুশাসনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পদ্ধতি শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন। প্রধান নির্বাহীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, গুণমানের ঋণ প্রস্তাব পর্ষদে পাঠান। পর্ষদ অন্যায় চাপ দিলে তা প্রতিহত করার কৌশল অর্জন করুন। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক এক্ষেত্রে সহযোগিতা দেবে বলে তিনি জানান।

গভর্নর বলেন, কোনো ব্যাংকের ঋণের সুদহার এখনও অতিরিক্ত মাত্রায় রয়েছে। বর্তমানে তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক বিধায় শিল্প খাতে এরুপ উচ্চহারে সুদারোপ কাম্য নয়। সুলভ বিনিয়োগ বাড়াতে শিল্প খাতে ঋণের সুদহার হ্রাস করে যুক্তিসঙ্গত মাত্রায় নির্ধারণের পরামর্শ দেন তিনি।

সভাশেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মেয়াদি শিল্পঋণের সুদহার হ্রাসসহ স্প্রেড ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের নিজস্ব ঘোষিত সুদহারের বেশি সুদ আদায় না করারও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সূর চৌধরী বলেন, সোনালী ব্যাংকের কাছে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এখনও ১৭৫৬টি স্বীকৃত বিল পাওনা রয়েছে। সভায় এ সব স্বীকৃত বিল কয়েকটি ধাপে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই সময়সীমার মধ্যে সোনালী ব্যাংক বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরো জানান, সভায় সঠিকভাবে ব্যাংকিং নিয়মাচার পরিপালন করে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ব্যাংক কোম্পানী (সংশোধন) আইন, ২০১৩ আজ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে এখন থেকে কোন ব্যাংকে একই পরিবারের দুইজনের বেশি পরিচালক থাকতে পারবেন না।

সভায় দেশে কার্যরত সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা ছাড়াও কেন্দ্রিয় ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।