বাস ধর্মঘট ঢাকা-বরিশাল রুটে

বার্তাবাংলা ডেস্ক::ঢাকা-বরিশাল রুটে ২৪ ঘণ্টার বাস ধর্মঘট শুরু করেছে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তাদের এ কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে ঢাকা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন।

গত ১১ জুলাই বরিশালের উজিরপুরের ইচলাদিতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা একতরফাভাবে ধার্য করা হয়। সংগঠনের কর্মকর্তারা সালাহউদ্দিন আহম্মেদ দেশ টিভিকে বলেন, একতরফভাবে ক্ষতিপূরণ ঠিক করার প্রতিবাদে এ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় হানিফ পরিবহনের পক্ষে যোগ দেন কফিল উদ্দিন। সরকারি নিয়মানুসারে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজী হলেও নিয়মের দুই গুণ ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। এরই প্রতিবাদে সকল বাস মালিক-শ্রমিক এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।

ধর্মঘটের ফলে সকাল থেকে কোনো বাস নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড ছেড়ে যায়নি। ফলে যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

এদিকে, ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বরিশালের পাশাপাশি ঢাকা-মাদারীপুর রুটেও ধর্মঘট শুরু হয়েছে।

ঢাকার গাবতলীতে বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি সভায় রোববার এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয় বলে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক আবু তালেব কচি জানান।

এ ধর্মঘটের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব হোসেন।

অন্যদিকে ঈদের এক সপ্তাহ আগে এ ধর্মঘট ডাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, যিনি ক্ষতিপূরণ নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে ছিলেন।

ধর্মঘট আহ্বানের খবর শুনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় তালুকদার ইউনুস বলেন, এতগুলো মানুষ মারলো, আবার এখন উল্টো তারা মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি করছে, এটা অন্যায়।

ক্ষতিপূরণের অর্থের বিষয়ে তিনি বলেন, বাসের চাপায় যে ১১ জন মারা গেছেন তারা কেউই বাসের যাত্রী ছিলেন না। তাদের পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ নেই। তাই মানবিক কারণেই হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত।

সমিতির সহ-সভাপতি মো. সামিউল্লাহর সভাপতিত্বে এ সভায় ঢাকা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্বাস উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আতিকউল্লাহ আতিকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা তালেব কচি বলেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে সরকার নির্ধারিত ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মালিকপক্ষ।

এ নিয়ে গত ১৯ জুলাই বরিশাল সার্কিট হাউজে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে তালুকদার ইউনুস ছাড়াও উজিরপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ সিকদার বাচ্চু, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার একেএম এহসানউল্লাহ এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তালেব কচি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা নিহতদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬০ হাজার এবং আহতদের ২৫ হাজার টাকা করে ‘একতরফা’ ক্ষতিপূরণ ধার্য করেন। সরকার নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের চেয়ে বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করার প্রতিবাদে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে জানান তিনি।