ঈদ বাজারে জাল নোটের ছড়াছড়ি

বার্তাবাংলা রিপোর্ট ::ঈদকে ঘিরে জাল নোটের ছড়াছড়ি। রমজান শুরুর আগের মাসসহ এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত প্রায় ৩০টিরও বেশি কেস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে। যা স্বাভাবিক সময়ে ছিল ১০ থেকে ১২টি। বিশেষত গত মে-জুনে জাল নোটের ব্যবহার ও উৎপাদন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। দু’মাসে প্রায় ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা জাল নোট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ টাকার ৩টি নোট, ১০০ টাকার ৩৯টি, ৫০০ টাকার ৯২২টি ও ১০০০ টাকার ৩৮৯টি নোট। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক স্তরে জাল নোট শনাক্ত করা হয়। ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাংলাদেশ পুলিশ জাল নোট শনাক্ত করে। এর মধ্যে জাল নোট বেশি ধরে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাল নোট উৎপাদন কেন্দ্র, জাল নোট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা চক্রকে ধরে পুলিশ মামলা দেয়। তার আগে অবশ্যই উদ্ধার করা নোট প্রকৃত বিচারে জাল কিনা তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিনের মাধ্যমে যাছাই-বাছাই শেষে সিল মেরে দেয়। তখন থেকে ওই নোট জাল হিসেবে বিবেচিত হয়। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে লেনদেনের সময় কিছু টাকা জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়। অবশ্য এর পরিমাণ বেশি নয়। বেশি আসে পুলিশের মাধ্যমে। এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে-ব্যবসায়ীদের হাতে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন তুলে দেয়া হচ্ছে। সোমবার এফবিসিসিআইয়ের হাতে ১৩০টি মেশিন তুলে দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসিম কুমার মানবজমিনকে জানান, সারা দেশে ২০০’র মতো জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দেয়া হবে। আগামী সোমবার এফবিসিসিআই ও দোকান মালিক সমিতির হাতে এটি হস্তান্তর করা হবে। এর মধ্যে শুধু ঢাকায় ৪৬টি সেন্টারে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন দেয়া হবে বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি বিভাগের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমানে মতিঝিল অফিসের মহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম ইসলাম খান মানবজমিনকে জানান, ঈদকে ঘিরে জাল নোটের প্রচলন বেড়েছে। তবে আগের তুলনায় বেশি নয়। তিনি বলেন, ঈদ এলে আগে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন পুলিশ প্রশাসনকে দেয়া হতো। কিন্তু এবার দেয়া হবে ব্যবসায়ীদের। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তা শ্রেণীর কাছে সেবা পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কর্মকর্তা। সাইফুল ইসলাম খান আরও বলেন, ব্যাংকে এসব টাকা আসার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগে গণনা ও পরীক্ষা করা হয় এবং প্রকৃত পক্ষে এ সব টাকা জাল কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ১৪৩টি কেস কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার ৪১৩টি নোট। যার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫০ টাকা। খুচরা পর্যায়ের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, জাল নোট হিসেবে শনাক্ত হওয়া নোটের মধ্যে রয়েছে-৫০ টাকার ১৮৭টি নোট ৯৩৫০ টাকা, ১০০ টাকার ৭৫১টি নোট ৭৫ হাজার ১০০ টাকা, ৫০০ টাকার ২৮৪৬টি নোট এক কোটি ৪২ লাখ ৩ হাজার টাকা ও ১০০০ টাকার ৭ ৭৬২৯টি নোট ৭ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার টাকা। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, ঈদকে সামনে রেখে জাল নোট তৈরি ও সরবরাহ চক্রগুলো খুবই সক্রিয়। যার প্রমাণ রমজান শুরুর আগের মাসে জাল নোটের কেস অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। নিয়মিত মাসে যেখানে কেস থাকতো ১০টি। এখন সেখানে কেস সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ৩০টিতে। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কোন কেসের সঠিক বিচার কিংবা নিষ্পত্তি হয় না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বছরের পর বছর এ ধরনের কেস ঝুলে থাকে। প্রকৃত বিচার না হওয়ায় অপরাধীর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে জাল নোটের পরিমাণও। তিনি আরও বলেন, জাল নোট রোধে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর মাধ্যমে সারা দেশে ১৩০টি জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি শুধু ঢাকামহানগরের জন্য। এগুলো রাজধানীর বড় বড় শপিং মলে দেয়া হবে। কারেন্সি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জোয়ারদার ইসরাইল হোসেন মানবজমিনকে জানান, এবারের ঈদে কোথাও কোন জাল নোট পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোন কাউন্টারে এ ধরনের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় জাল নোট উদ্ধার করছে তা কিভাবে দেখছেন? সেটা ভিন্ন ব্যাপার।