বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

Screenshot_11বার্তাবাংলা ডেস্ক::পুরাতন কার্যলয় ছেড়ে প্রায় রাজপ্রাসাদসম নতুন কার্যালয়ে উঠেছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নতুন কার্যালয়ে ওঠার আগেই এর পেছনে ব্যয় করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এতো টাকা ব্যয় করা হলেও কার্যলয়টিতে এখনো কর্মকর্তাদের বসে কাজ করার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। অথচ চেয়ারম্যান ও তিন সদস্য ঠিকই এ প্রাসাদে নিজেদের আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করে নিয়েছেন।

সাধারণ বিমা করপোরেশনের মালিকানাধীন দিলকুশার এসবিসি টাওয়ারে স্থাপন করা আইডিআরএ’র নতুন কার্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, ভবনটির ৯ম তলায় ২ হাজার ২৪০ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়েছে আইডিআরএ। এর বড় অংশ জুড়েই রয়েছে চেয়ারম্যান ও চার সদস্যের (বর্তমানে তিন জন সদস্য) বসা ও বিভিন্ন সভার জন্য বরাদ্দ।

আর কর্মকর্তাদের বসার জন্য জায়গা রাখা হলেও এখনো করা হয়নি বসার কোনো ব্যবস্থা। ফলে পুরোনো অফিসের কাগজপত্র বোঝাই করে আনা কার্টনে বসে অথবা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।
অথচ চেয়রম্যান ও তিন সদস্যদের কক্ষ এবং তাদের পিএস’র কক্ষ সাজানো হয়েছে বেশ পরিপাটি করে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিভিন্ন সভার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের তিনটি সভাকক্ষ। এগুলো সাজানোও হয়েছে বেশ পরিপাটি করে। আর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কক্ষের সামনে রয়েছে বিশাল খালি স্থান। এ স্থানে চাইলে ফুটবলও খেলতে পারবেন তারা!

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষ রয়েছে দু’টি। এর মধ্যে একটি সম্মেলন কক্ষ এবং অন্যটি বোর্ডরুম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভা কক্ষ আছে একটি।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ বিমা করপোরেশনের মালিকানাধীন দিলকুশার এসবিসি টাওয়ারের প্রতি বর্গফুট ৭০ টাকা হারে ২ হাজার ২৪০ বর্গফুটের কার্যালয়টি আইডিআরএ ভাড়া নেয় ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে। আড়াই বছর পর গত ৬ জুলাই নতুন কার্যলয়টিতে উঠেছে আইডিআরএ। অর্থাৎ কার্যলয়টিতে ওঠার আগেই ভাড়া বাবদ খরচ হয়েছে ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কার্যালয়টি সাজাতে খরচ হয়েছে আরও ৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে আগের কার্যালয়টির জন্য গুণতে হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।

আইডিআরএ’র সূত্রটি জানায়, নতুন এ কার্যালয়ের বিদ্যুৎ লাইন, ডেকোরেশন, ইনটেরিয়র ডিজাইনের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় ভাড়া নেওয়ার ১০ মাস পর ২০১২ সালের ২২ অক্টোবর। টেন্ডার নোটিশে সময় বেধে দেওয়া হয় ৩ মাস। টেন্ডারও দেওয়া হয় একাধিকবার।

এদিকে ‌আইন অনুযায়ী আইডিআরএ’র কার্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু দিলকুশার এসবিসি টাওয়ারে কার্যালয় স্থাপন করার বিষয়ে সরকারের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের বিষয়ে নতুন বিমা আইন ২০১০ এর ১২ নম্বর আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকিবে’। আর ৪(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে সরকারের পূর্বানুমতিক্রমে বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে উহার শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে’।

‌আইডিআরএ’র সূত্রটি আরও জানায়, আইডিআরএ’র কার্যালয়ের ফ্লোরটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে ১৪০ কিলোওয়াট। এর বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে পারছেন না ভবন মালিক। তবে সেন্ট্রাল এসি যেভাবে স্থাপন করা হয়েছে তাতে আরও ৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ছাড়া আইডিআরএ অফিস করা সম্ভব হবে না। ফলে জেনারেটর দিয়েই বাকি ৫০ কিলোওয়াটের চাহিদা পূরণ করতে হবে। এ জন্য লাগবে ২টি জেনারেটর।

বিষয়টি নিয়ে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »